গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার পর অবশেষে গ্রামবাসীরা জুয়া ও মাদকের আস্তানা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে টান-কালিয়াকৈর এলাকায়। ঘটনার পরে মাদক ব্যবসায়ীরা দ্রুত গা ঢাকা দিয়েছেন, যা স্থানীয় অঞ্চলের জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গ্রামবাসীদের মতে, এই ঘটনার ফলশ্রুতিতে এলাকার পরিস্থিতি আরও অশান্ত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশনি কোনো কিছু বলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, কালিয়াকৈর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মাদক আলাদাভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই মাদক আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকের কারণে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নিয়মিত আতঙ্কে থাকছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে নানা সময় বিভিন্ন অভিযান চালালেও পরিস্থিতি তেমন বদলায়নি। মাদকবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যে হামলা, মারধর ও আস্তানা দখলের চেষ্টা লক্ষণীয়। সবশেষ গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হন গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এই হামলায় একজন মাদক ব্যবসায়ী হাবিবকে আটক করে তার সহচররা ছিনিয়ে নেয়। পূর্বে আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গাজীপুর মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন।
তারপরও মাদক ব্যবসায়ীরা যেন থামছেন না। তারা ঘাটাখালী নদীর তীরে ঝুপে মাদকের আস্তানা তৈরি করে রেখেছে, যেখানে দিনে-রাতে জুয়া খেলা হয়, মাদক বিক্রি হয়। এই বিষয়টি স্থানীয় জনগণের চোখে ধরা পড়েছে, তবে মোড়ক নিয়ে চুপ থাকছেন অনেকেই। গত রবিবার রাতে গ্রামবাসীরা সেখানে পৌছে তাবু, তাস ও মাদক পোড়ানোর জন্য আগুন লাগিয়ে দেন, যাতে মাদক দ্রব্যসহ আস্তানা পুড়ে যায়। এতে কোন হতাহত হয়নি। তবে এরপর থেকেই মাদককর্মীরা পালিয়ে গেছেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
একজন গ্রামবাসী ও মাদক বিরোধী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান শিপলু জানালেন, কিছু দিন আগে অভিযানের সময় পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা হামলার শিকার হন। ওই রাতে তারা একসাথে ওই আস্তানা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, “আমরা যদি সবাই একত্রে এগিয়ে আসি, তাহলে মাদকের পাশাপাশি অন্যান্য অসামাজিক কাজগুলোও ঠেকানো সম্ভব।”
অভিযানে অংশ নেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “আমরা শিগগিরই ওই এলাকায় কঠোর অভিযান চালাবো। এর আগে একাধিক সময় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে মাদক দমন এখনই বন্ধ হবে না।” তিনি আরও জানান, নিয়মিত মামলা ও কার্যক্রম চলমান থাকবে এমনকি পরিস্থিতি আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।




