ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কেটি বোল্টারের কোর্ট লড়াই, জীবনের সঙ্গেও মোকাবিলা

ফ্রেঞ্চ ওপেনের নারী একক টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডে ব্রিটিশ টেনিস তারকা কেটি বোল্টার একটি শক্তিশালী ম্যাচ খেলেছিলেন, যেখানে তিনি স্বাগতিক খেলোয়াড়কে হারিয়ে জয় অর্জন করেন। প্রথম সেটে টাইব্রেকারে হার সত্ত্বেও পরের দুই সেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৬-৭, ৬-১, ৬-১ স্কোরে জয় নিশ্চিত করেন বোল্টার। এটি ছিল তার রোলাঁ গারোর মূল পর্বে প্রথম জয়, যা অবশ্য আনন্দের সঙ্গে একটি অন্ধকার অধ্যায়ের শুরুও বটে।

ম্যাচের উত্তেজনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোল্টারের ইনবক্সে আচমকা বিস্ময়কর ও ভয়াবহ হুমকির বার্তা ভেঙে পড়ে। ‘‘আশা করি তুমি ক্যানসারে মারা যাবে’’, ‘‘তোমার দাদির কবর খুঁড়ে ফেলব যদি কালকের মধ্যে মারা না যাও’’, ‘‘তোমার জন্য আমার মায়ের পাঠানো টাকা নষ্ট হয়ে গেছে’’— এমন প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতি ব্যক্তিগত ও পরিবারকে নিয়ে অপমানজনক আক্রমণ গড়ে ওঠে। বোল্টারের নিজের কথায়, ‘‘এগুলো এত স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে যেন আমার জীবনযাপনের অংশ হয়ে উঠেছে।’’

বিবিসি স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘‘প্রথম দিকে এসব খুব ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি, এতে মানসিক চাপ ও আতঙ্ক কাজ করত। কখনো কখনো কান্না পর্যন্ত হয়েছিল। ধীরে ধীরে আপোস করতে শিখেছি, তবে ভেতরে প্রশ্ন থেকে যায়, এত ঘৃণা কী করে একজন মানুষের প্রতি জন্মায়?’’ তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে অনেক সময় হারের পর রাগে খেলা ও বাজি ধরার কারণে খেলোয়াড়দের ওপর অবৈধ ও সীমাহীন হুমকির ঢেউ নামে। ২০২৪ সালেরই একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টেনিস তারকারা অন্তত ৮ হাজার হুমকি বার্তা পেয়েছেন, যার প্রায় ৪০ শতাংশই বাজি হারানোদের পক্ষ থেকে এসেছে।

একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নেমেছে, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো থেকে কার্যকর প্রতিক্রিয়া না পাওয়া বোল্টারসহ খেলোয়াড়দের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি জানান, প্রতিদিনই তার ইনবক্সে অশ্লীল ও হুমকিপূর্ণ ছবি আসে। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটা মেনে নেওয়া কঠিন, যা মানসিক চাপ বাড়ায়।

অস্ট্রেলিয়ার টেনিস তারকা অ্যালেক্স ডি মিনরের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে; তার হবু স্ত্রী কেটির জন্য হুমকি প্রাপ্তি থেকে শুরু করে নিজের ইনবক্সে নানা হুমকির বার্তা পাওয়া পর্যন্ত। আসন্ন উইম্বলডনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বোল্টার, তবুও সামাজিক মাধ্যমের হুমকি তার পাশে থেকে যাচ্ছে প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে।

এ ধরনের সাইবার সহিংসতা শুধু বোল্টার কিংবা ডি মিনরের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের শীর্ষ নারী টেনিস তারকা যেমন ইগা শিয়নটেক, জেসিকা পেগুলা, ওন্স জাবের, আরিনা সাবালেস্কারও নিয়মিতভাবে এই ধরনের হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে নারীদের প্রতি এই সাইবার সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং টেনিসসহ অন্যান্য খেলাধুলাদের এই সমস্যার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।