ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গরিবদের নাগালে নেই ইলিশ মাছ

আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের অটো চালক মনিরুল ইসলাম গভীর আক্ষেপের সঙ্গে বলেছেন, “আমরা গরিব মানুষ, আমাদের ভাগ্যেও নেই ইলিশ মাছ। ভালো দাম হওয়ার কারণে ইলিশ খেতে পারে শুধু ধনী মানুষই।” ইলিশ মাছের মরসুম হলেও বাজারে তার দাম অত্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ইলিশ কেনা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

এক সময় বঙ্গোপসাগর ও সাগর মোহনা, পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে ইলিশের প্রচুর আধিক্য ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই এলাকায় ইলিশের সংখ্যা ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। ইলিশ শিকারের মৌসুম জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চললেও, সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। আমতলী ও তালতলী উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৭৯৯ জন জেলে রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইলিশ শিকার করেন। গত ১১ জুন ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে জেলেরা পুনরায় ইলিশ শিকারে নামে।

যদিও ইলিশ ধরা পড়ছে, তবে দামের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য এটি ক্রয়যোগ্য নয়। তালতলী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ চারটি ক্যাটাগরিতে বিক্রি হয় – ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম, ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম এবং ১০০০ গ্রামের ওপর। এর মধ্যে ছোট ইলিশের মণ ৩৫ হাজার টাকা, মাঝারি আকৃতির ইলিশের মণ ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা এবং বড়ো ইলিশের মণ সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই হিসাবে কেজি প্রতি দাম ৮৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা পর্যন্ত।

এই দাম সাধারণ গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা ইলিশ মাছের স্বাদ তো দূরের কথা, মুখেও তোলেননি। একজন ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় বাজারে প্রচুর ইলিশ বিক্রি হয় না, কারণ সেগুলো ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে রপ্তানি করা হয়। মাদারীপুর জেলা এত বড়ো সাইজের ইলিশের প্রধান ক্রেতা হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রবাসীরা ইলিশ কিনে থাকেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকও বলেছেন, গত দুই বছরে তারা ইলিশ কিনে খেতে পারেননি, কারণ দাম অনেক বেশি এবং তাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে তা ক্রয় করা অসম্ভব।

তালতলী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাইকারী ব্যবসায়ী মো. টুকু সিকদার ও ইনচার্জ মো. জুয়েল জানান, ইলিশ মাছের দাম বর্ধিত হয়েছে এবং স্থানীয় বাজারে মাছ বিক্রি না হওয়ায় তা বেশি দামে বৃহত্তর শহরগুলোতে রপ্তানি হয়। আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ ও বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন মিয়া বলেন, ইলিশের দাম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, এবং দাম নিয়ন্ত্রণে তাদের অফিসের কোনও সরাসরি ভূমিকা নেই। তবে দাম নাগালের মধ্যে না হলে সাধারণ মানুষ ইলিশ কিনতে পারবে না বলে তারা স্বীকার করেছেন।

এভাবেই বর্তমানে ইলিশ মাছের দাম চোখ ছুঁই ছুঁই হওয়ায় গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের কপালে নেই সুস্বাদু ইলিশের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ।