ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আবারও ইসরায়েলের হামলা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ঘোষণা করা শান্তি চুক্তির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও, তারা অব্যাহত রেখেছে গুলিবর্ষণ, এর ফলে গাজায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-নাজলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন মাত্র ১১ বছর বয়সের ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পাশাপাশি এই একই দিনে গাজার বিভিন্ন স্থানেও ইসরায়েলি হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ১০ অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে।

জাবালিয়া এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের নেমসাউই কবরস্থানের কাছেও বেপরোয়া গুলিবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। সেখানে এক শিশু ও এক নারীসহ চারজন আহত হন, जिन्हােকে আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাজার সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই অব্যাহত হামলায় মোট ৪১৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,১১0 জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া দুই বছরের এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা এখন ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে, এর মধ্যে নারী ও শিশুদের বড় অংশ রয়েছে। আহতের সংখ্যা রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি।

অন্তর্বর্তীভাবে, গাজার মানবিক পরিস্থিতিও দিনপ্রতি ভয়াবহতার দিক দিয়ে জটিল হয়ে উঠছে। আল-দারাজ এলাকার আল-ইয়ারমুক আশ্রয়শিবিরে রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যেখানে একজন মা ও তার শিশু মৃত্যু হয়েছে। চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে লাখ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন প্রাচীন অস্থায়ী তাঁবুগুলোর মধ্যে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এসব তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি স্থাপনের জন্য অসহযোগিতা করছে ইসরায়েলি নেতানিয়াহু তার বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার বৈঠকের পর, ট্রাম্প তাকে ‘বীর’ বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলছেন যে, ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু তাদের নির্ধারিত পরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। তবে সত্যিই কি নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হওয়ার পরে দ্বিতীয় ধাপের জন্য আগ্রহী? বিশেষজ্ঞ ও সূত্র মতে, তার আগ্রহ যেন সেটি বাস্তবায়িত না হয়, এমন কিছু কারণ রয়েছে।

প্রথমত, নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকার অত্যন্ত কট্টর দক্ষিণপন্থি, যারা গাজায় নতুন করে প্রবেশের ও অব্যাহত দখলবাদ চালানোর পক্ষে। দখলদারি ও গাজা দখলের স্বার্থে তারা নানা দলে মতের বিরোধিতা ও চাপ সৃষ্টি করছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাহিনী গাজায় মোতায়েন হলে ইসরায়েলের স্বাধিকার ও সামরিক কার্যকলাপের স্বাধীনতা হ্রাস পাবে বলে তিনি মনে করেন। এর ফলে, নতুন হামলা বা অভিযান চালানো কঠিন হয়ে যাবে। তৃতীয়ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকলেও, নেতানিয়াহু তার কার্যক্রম স্বশস্ত্রভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত অঙ্কে জটিলতা সৃষ্টি করছেন।

নেতানিয়াহুর এই অবস্থান তাঁকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উত্সাহিত করছে যেন তিনি পরিস্থিতি এখনই রেখেই রাখতে চান, যা একদিকে তাঁর রাজনৈতিক স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, অন্যদিকে গাজায় স্থিতিশীলতা ও শান্তি স্থাপনায় বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই কারণগুলো একত্রে দেখলে বোঝা যায়, তিনি হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আটকে রাখতে চাইছেন। অক্টোবরের শেষ থেকে পর শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের অব্যাহততা ও গভীর আড়াআড়ি পরিস্থিতির জন্য মূলত এই জটিলতা দায়ী।