ঢাকা | রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব: ২০২৫–২৬-এ নতুন মাইলফলক

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টন পণ্য আগমন-প্রস্থান করেছে এবং এসব পণ্যের সম্মিলিত শুল্কায়িত মূল্য ১১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এর প্রভাবে সরকারি কোষাগার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমষ্টিগত রাজস্ব আয়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার একটি ব্যতিক্রমী অর্জন লক্ষ করা গেছে।

এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস করা হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলো থেকে সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছর ২০২৪–২৫-এর সঙ্গে তুলনা করলে আমদানির পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে; আগের বছর রাজস্ব আদায় ছিল ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা।

রপ্তানি ক্ষেত্রেও বন্দরটির ভূমিকা শক্তিশালী থেকে গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ৪৯ লাখ টন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি পণ্য পরিবহনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বাড়লেও শুল্কায়িত মূল্যের বৃদ্ধি এক শতাংশের নীচে ছিল। কিছু নির্দিষ্ট পণ্য রপ্তানিতে সরাসরি শুল্ক আরোপ না থাকলেও মোট মিলিয়ে বাণিজ্যের এই বিস্তার দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বয়ে আনে।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পরিচালন আয়ও গত এক বছরে দারুণভাবে বেড়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে যেখানে বন্দরের আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, সেখানে বিদায়ী অর্থবছরে তা ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহনের বৃদ্ধি, পাশাপাশি ট্যারিফ সমন্বয়ের প্রভাব বন্দরের পরিচালন রাজস্বে এই উল্লম্ব প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সরকারি রাজস্বের বাইরেও বন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বড় ব্যবস্থাপনা খাত সক্রিয় রয়েছে—বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও পরিবহন খাতে যুক্ত ব্যবসায়ীরা সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এই সকল বেসরকারি লেনদেনের একটি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই, তবু সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টকার আর্থিক কর্মকাণ্ড বছরে বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দরের এই সফলতা কেবল রাজস্ব বৃদ্ধিই নয়—বহুমাত্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল দৃঢ় হওয়া, বাণিজ্যিক গতিশীলতা এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করে। দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর এভাবে সাফল্য ধরে রাখলে সমগ্র অর্থনৈতিক চিত্রে এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে।