চীন ও রাশিয়া তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বুধবার (২০ মে) অনুষ্ঠিত শীর্ষস্থ বৈঠকে প্রায় ২০টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চীনা নেতা শি জিনপিং ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এই আলোচনা জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর केन्द्रিত ছিল।
ক্রেমলিন জানিয়েছে যে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৪০টির মতো চুক্তি পরিকল্পিত থাকলেও এ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় ২০টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে; বাকি চুক্তিগুলো পরে পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে। স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গণমাধ্যম, বৌদ্ধিক সম্পত্তি সুরক্ষা ও বাণিজ্য প্রসার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ন।
বৈঠকের অভিকথায় দুই দেশ একটি যৌথ ঘোষণাপত্রও প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চীন ও রাশিয়ার নতুন ধরনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার থাকবে।
বৈঠক শেষের সংবাদ সম্মেলনে শি জিনপিং বলেন, ‘‘মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত অংশীদারত্বে পৌঁছেছে।’’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশ একে অপরকে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দেখছে এবং প্রযুক্তি ও এআই ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। শি উল্লেখ করেন যে বিশ্ববাজারে চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে, কারণ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের বড় অংশের উৎসের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক রয়েছে।
জি সূত্রে শি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার এবং একতরফা বলপ্রয়োগের বিরোধিতাও তুলে ধরেন এবং বলেন, দায়শীল পরাশক্তি হিসেবে চীন ও রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া চীনের কাছে তেল ও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহিরাগত চাপ ও নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’’
বিজ্ঞপ্তিতে রাশিয়া ও চীন দুই দেশের মধ্যে বৈশ্বিক ইস্যুতে সমর্থন এবং একে অপরের প্রতি স্থির নীতি প্রদর্শন করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এও বলা হয়েছে যে এই চুক্তিসমূহ এবং পুতিন-সি বৈঠকের পরের যৌথ বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি করেছে—ট্রাম্পের সফরে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা যৌথ বিবৃতি বের হয়নি।
জোটবদ্ধ বিবৃতিতে রাশিয়া ও চীন জানিয়েছে যে ঔপনিবেশিক মনোভাব নিয়ে কিছু দেশের বৈশ্বিক বিষয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু বিশ্বের কিছু অংশ ‘‘জঙ্গলের আইনে’’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকির সম্মুখীন। ক্রেমলিন উল্লেখ করেছে যে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জে পূর্ণ; বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের এজেন্ডা বিভক্তি ও জটিলতায় পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতাগুলো কেবল জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত মঞ্চে দু’দেশের সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করে তুলতে পারে। তবে বাকী চুক্তি, তাদের বিস্তারিত চরিত্র ও প্রয়োগ কবে এবং কিভাবে কার্যকর হবে—তাই রয়েছে নজরদারির বিষয়ের মধ্যে।








