ঢাকা | শনিবার | ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চীন বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং চীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশকে সবধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। তিনি এসব কথা বলেছেন শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘চীন–বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফর এবং প্রথমবারের মতো দুই দেশের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সবসময় দৃঢ় সমর্থন জানাবে। পাশাপাশি ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বেইজিং।

অর্থনীতিতে চীনের অবদানের কথা তুলে ধরে ইয়াও ওয়েন বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর থেকে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করেছে, যা প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও জানালেন যে তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে চীন কাজ করছে।

সবুজ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।

দুই দেশের মানুষের সশস্ত্র যোগাযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে চীনের ভিসা দেয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন বছর শেষে এই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট চলছে।

বাংলাদেশ সরকারের কর্মমুখী উদ্যোগকে প্রশংসা করে ইয়াও ওয়েন বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের এই সময়ে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে থাকতে চায়। বিশেষ করে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং তৃণমূল স্তরের সুশাসনে চীন তাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত।

রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব’ আরও দৃঢ় হবে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতেও সম্মিলিতভাবে সম্প্রসারণ ও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।