ঢাকা | সোমবার | ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের

ছয় দফা দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ‘ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি’ রবিবার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশজুড়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজসহ চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নরা ক্লাস-পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বিরত থেকে দাবি আদায়ের জন্য প্রতিবাদ মঞ্চস্থ করেছেন। তারা বলছেন, বেতন বৃদ্ধিসহ নির্দিষ্ট দাবিগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চলবে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, ‘সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদ’ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায় ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে এই পথে নামতে হয়েছে—এমনটাই তাদের দাবি। তারা অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান কিছু নীতিমালা ও বিধি-বিধান চিকিৎসক সমাজকে অবমূল্যায়িত ও অপমানিত করছে।

ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এফসিপিএস কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসকদের বেতনকাঠামোতে বৈষম্য, ভর্তি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের অপ্রতুল বেতন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের অনিয়মিত ও অসংগত বেতন কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়েছে।

পরিষদ আরও বলেছেন, বারবার দাবি উত্থাপন, প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ও সন্তোষজনক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তাদের মতে, চিকিৎসকদের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাশিক্ষা নিশ্চিত না করেই দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তাই পূর্বঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি মোস্তফা আমির ফয়সাল, সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মারুফ, সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাসেম ও সহসাধারণ সম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী।

প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে:

– স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এফসিপিএস (পর্ব-১) উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের পদায়নের নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির প্রস্তাবনা বাতিল করা;

– বিসিএস ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা;

– নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন ন্যূনতম ৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা এবং ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন আবাসিক ভাতাসহ নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে নির্ধারণ ও প্রতি মাসের বেতন নিয়মিতভাবে পরিশোধ নিশ্চিত করা;

– ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি;

– বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগে বয়সসীমা পূর্বের মতো ৩৪ বছর করা;

– বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট ও ন্যায্য বেতনকাঠামো প্রণয়ন (শ্রম আইন, ২০০৬-এর যথাযথ প্রয়োগ ও পে-স্কেলের আদর্শ অনুসরণ)।

ইন্টার্নরা জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন কঠোর হবে এবং রোগী সেবায় নেতিবাচক প্রভাব কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যতিক্রম ছাড়া কর্মসূচি বজায় থাকবে। কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ও দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করে সক্রিয় সংলাপের আশাও প্রকাশ করা হয়েছে।