ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতিসংঘের up: ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ কঠোরভাবে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে যে, ইসরায়েল অধিকৃত জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি জনপদগুলো থেকে জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ওএইচসিএইচআরের তথ্যমতে, মাসাফের ইয়াত্তা অঞ্চলে প্রায় ১২০০ ফিলিস্তিনি নাগরিককে জোরপূর্বক স্থানান্তর করা হতে পারে।

জাতিসংঘের ওই দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায় যে, দক্ষিণ হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় ফিলিস্তিনিদের সমস্ত ধরনের নির্মাণ ও পরিকল্পনার অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক প্রশাসন। তাদের দাবি, ওই স্থানটি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হবে।

ওএইচসিএইচআর আরও গণনা করেছে যে, গত কয়েক মাসে ইসরায়েল ব্যাপক বাড়িঘর ধ্বংস, ফিলিস্তিনি নাগরিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন চালাচ্ছে। এছাড়া মাসাফের ইয়াত্তার ভিতর ও আশপাশে চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা বাধ্য হয়ে উচ্ছেদ হচ্ছে।

এছাড়াও ওই এলাকায় অবৈধ ইহুদি বসতিগুলো থেকে আসা দখলদাররা ফিলিস্তিনি নারী, শিশু ও প্রবীণদের ওপর নিয়মিত হামলা ও হয়রানি চালাচ্ছে, যাতে তারা বাধ্য হয়ে সেখান থেকে চলে যায়।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজায় চলমান মানবিক সহায়তাকে ‘সম্পূর্ণ লজ্জাজনক’ হিসাবে উল্লেখ করে এই সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের দাবি তুলেছেন। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, হামাসই গাজায় খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের নিয়ন্ত্রণ করছে, এ জন্য সহায়তা বন্ধ করলেই দ্রুত বিজয় সম্ভব।

বেন-গভিরের মত কট্টর ডানপন্থি নেতারা ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় শুরু থেকেই গাজায় সহায়তা পাঠানোর বিরোধিতা করে আসছেন, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধে সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে আহ্বান জানিয়ে আসছে।

ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ থামলেও, দীর্ঘদিনের ফিলিস্তিন সংকটে কোন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইসরায়েলের হামলা ও আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৯০ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ইসরায়েলি আগ্রাসনে মোট ৫৬,১৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৩২,২৩৯ জন আহত অথবা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।