ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৩০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ পড়বেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমকে তিনি খবরটি নিশ্চিত করেন—পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নামাজ আদায় করবেন এবং রাষ্ট্রপতিও বছরে acostumbrানুযায়ী সেখানে নামাজ পড়বেন। ফলে এবারের প্রধান ঈদজামাতে দুই ভিভিআইপিকে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় ঈদগাহে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পাবে বলে তিনি বলেন।

আবহাওয়ার প্রতি সতর্কতা রেখে প্রশাসন একটি বিকল্প পরিকল্পনাও রেখেছে। যদি কোনো কারণে ঈদগাহ ময়দান নামাজের উপযোগী না থাকে, তবে প্রধান জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ গুরুত্বপূর্ণ জামাতস্থলে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হবে।

প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকাকে মূল এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদগাহের আশপাশের রাস্তায় সকল ধরনের যানবাহন প্রবেশ ও পার্কিং নিষিদ্ধ থাকবে।

নিরাপত্তা বলয়ে ডিএমপির বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসি, ডগ স্কোয়াড ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নারীদের সুবিধার জন্য ঈদগাহে পৃথক গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও জামাতগুলোতেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন।

ডিএমপি মুসল্লিদের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। জামাতে আসার সময় কেবল জায়নামাজ, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনে ছাতা বহন করার অনুমতি থাকবে। দেশলাই, লাইটার বা যেকোনো ধরনের দাহ্য বস্তু সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল জোরদার করা হবে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ পাহারা থাকবে। প্রশাসন জানিয়েছে—ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সমগ্র সুরক্ষার মধ্য দিয়েই এবারের ঈদ উদযাপনের সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।