ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় জামায়াতের অনুপস্থিতি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে জামায়াতের জন্য সংরক্ষিত আসনটি মধ্যাহ্নভোজের আগ পর্যন্ত ফাঁকা ছিল।

জামায়াতের এই অনুপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে নানা মতামত প্রকাশ পেয়েছে। অনেকের মত, কমিশনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে মতবিরোধ থাকায় তারা মঙ্গলবারের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘জামায়াত কেন আলোচনায় যোগ দেয়নি, সে বিষয়ে মন্তব্য করা কমিশনের কাজ।’

অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর জানান, ‘আমাদের জানা অনুযায়ী জামায়াত আজকের বৈঠকটি প্রতীকীভাবে বয়কট করেছে। কমিশনের আলোচ্য বেশ কয়েকটি বিষয়ের প্রতি তারা একমত হয়নি, তাই অংশগ্রহণ করেননি।’

জামায়াতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের এই বৈঠকে থাকা প্রয়োজন ছিল। তারা আজকের আলোচনা বয়কট করেছে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানায়নি। যদি মধ্যাহ্নভোজের পরেও তারা অংশ না নেয়, তবে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বেশিরভাগ বিষয়ে আদর্শিকভাবে একমত, তবে নারীদের জন্য আলাদা করে ১০০টি সংরক্ষিত আসন রাখা প্রয়োজনীয় বলে আমরা মনে করি না। নারীর ক্ষমতায়ন আমরা সবাই চাই, তবে তা যেন কোনো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে না হয়।’

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনে করছে, নারী আসনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতানৈক্যের কারণে জামায়াত আলোচনার প্রথম পর্যায়ে অংশ নেয়নি। এই অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে আলোচনার গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, সেটাই এখন অপেক্ষার বিষয়।