ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-১ শার্শায় বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যশোর-১ শার্শা আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় ভোটাররা উৎসাহ ও আগ্রহ নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে যোগ দিয়েছেন। এই আসনে বিএনপির চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল থেকে একক প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপক সক্রিয় হয়েছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং আয়োজন করছেন, এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করছেন। যদিও নির্বাচনী মাঠে বিএনপি প্রাধান্য পাচ্ছে, তবু দলীয় একত্রিত কর্মসূচির মাধ্যমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা যদিও প্রকাশ্যে মিছিল-মিটিং করতে না পারলেও বিভিন্ন মাদ্রাসায় ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শার্শা আসনের ১১টি ইউনিয়নে মোট ১০২টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯৯২৮০, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫০৪৪০ এবং নারী ভোটার ১৪৮৮৮৩ জন।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যিনি গত ১৭ বছরে নানাভাবে মামলা, হয়রানি সইয়ে দলের প্রতি অনুগত থেকেছেন। তৃপ্তি শার্শার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতৃত্ব নিয়ে মিছিল, মিটিং ও পথসভা করছেন।

শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়। অতীতের নানা হয়রানি ও মামলা সত্ত্বেও তিনি দলের সঙ্গে অবিচল রয়েছেন। জেলা ও উপজেলার শার্শাবাসী তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চান।

সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও বর্তমানে উপদেষ্টা আলহাজ খাইরুজ্জামান মধু, যিনি সাম্প্রতিক অতীতে সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েও দলের প্রতি ভূমিকা অব্যাহত রেখেছেন, মনোনয়ন পেতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়াও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি আবুল হাসান জহিরও প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রার্থীতা তুলে ধরছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন এবং সক্রিয়ভাবে সদস্য সংগ্রহ ও প্রচারণা চালিয়ে চলেছেন।

এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী দেখা না যাওয়ায় দুই দলই নির্বাচনী মাঠে তাদের প্রভাব দেখিয়ে মাঠ গরম করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় নির্দেশনা মাফিক কাজ করার ব্যাপারে একমত এবং দল যে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে, সবাই ঐ প্রার্থীর জন্য একযোগে প্রচার ও সমর্থন প্রদান করবেন বলে জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যারা যোগ্য মনে করবেন, তাদের জন্য দলীয় ব্যানারে নির্বাচনী টিকিট দেওয়া হবে এবং দলের একতা ও ঐক্য বজায় রেখে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিটি মনোনয়ন প্রত্যাশী দিনরাত লক্ষ্যমুখী প্রচারণায় আছেন।