ঢাকা | সোমবার | ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এনসিপির রাঙামাটিতে ৭ নেতা পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নতুন করে রাঙামাটির সাতজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তের ফলে দলের মূল আদর্শ রক্ষা করা সম্ভব নয়—এই কারণ দেখিয়ে তারা লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পদত্যাগের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে আছেন—রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা, মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রণয় বিকাশ চাকমা, সদস্য বিনয় চাকমা ও সদস্য সুলেখা চাকমা।

তারা সবাই তাদের লিখিত পদত্যাগপত্র ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। উজ্জ্বল চাকমা তার পত্রে বলেন, ‘‘অনেক আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপি-তে যোগ দিয়েছিলাম। ‘২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের’ চেতনা ধারণ করে দলটি আমার কাছে বহুমাত্রিক ও বহুত্ববাদী বিশ্বাসী সংগঠন মনে হয়েছিল। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি তার স্বতন্ত্র আদর্শ থেকে সরে এসে একটি বড় দলের সঙ্গে জোট গঠন করে—এমন অবস্থায় ওই আদর্শ লালন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সশরীরে ও পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি রাঙামাটি জেলা কমিটির আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘‘অনেক নেতা পদত্যাগ করেছে—আমি এ কথা শুনেছি। তবে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন পৌঁছায়নি। কেন হঠাৎ করে একসাথে পদত্যাগ করা হলো, সেটা আমরা সাংগঠনিকভাবে দেখব।’’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে অংশ নেন। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের আগে থেকেই দলের থেকে পদত্যাগ করতেন ডা. তাসনিম জারা, সামান্থা শারমিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও নেত্রী।

এবারের পদত্যাগ প্রকাশ্যে আসার পর রাঙামাটি শাখায় অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে; জেলা স্কেলে বিষয়টি কীভাবে সামলানো হবে এবং কেন্দ্রীয় স্তরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।