নারী অধিকার সুরক্ষা এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে লাখো কণ্ঠে শপথ পাঠ’ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন থেকে ভার্চুয়ালি ৬৪ জেলা-উপজেলায় একযোগে লাখো মানুষ এই শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শপথ বাক্য পাঠ করান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে পাঠানো সংবাদ অনুযায়ী নওগাঁয়ে সদর উপজেলা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা কার্যালয় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘‘আমরা একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সহিংসতা মুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ অনুষ্ঠানের শেষে অসহায় ২৩০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
যশোরের কেশবপুরে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষক মিলনায়তনে শপথ গ্রহণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রেকসোনা খাতুনের সভাপতিত্বে বক্তৃতায় দেশের সকল ধরনের বৈষম্য দূর করে একতাবদ্ধ সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শপথ গ্রহণ ও আলোচনা সভায় নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তায় গুরুত্বারোপ করা হয়। গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি ভাবগম্ভীর পরিবেশে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শপথ অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
রাজবাড়ীর পাংশায় শপথ বাক্য পাঠ ও আলোচনা সভার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে সুবিধাভোগী নারীদের মাঝে ফলদ এবং ভেষজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। রাজশাহীতে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিভিন্ন দপ্তর মিলিত হয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, কাপাসিয়া, পটুয়াখালী, ফেনী, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, ফরিদপুরসহ দেশের আরও অনেকে জেলা-উপজেলায়ও একইভাবে কর্মসূচি পালিত হয়। জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন অফিস ও রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে শপথ অনুষ্ঠানকে মানুষের মাঝে দেশপ্রেম ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তা পৌঁছে দেয়।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠন, যা সবাই মিলে সম্ভব হবে।’’ বিভিন্ন স্থান থেকে আয়োজিত সভায় অংশগ্রহণকারীরা সংবিধান রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত রাখা এবং সকল ধরনের অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জুলাই পুনর্জাগরণের এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করতে এবং নারী-শিশুর মর্যাদা দানসহ মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ প্রতিষ্ঠায় এক নতুন ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।








