বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান শনিবার রাজশাহীর মোহন পার্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বিএনপি হলো জনগণের দল। দীর্ঘ ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ দুইবার বাকশাল প্রথা চালু করেছিল। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের শক্তি, ভোট ও গণতন্ত্রে। এই দল সততা, আইনশৃঙ্খলা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উৎপাদনমুখী রাজনীতির উপর বিশ্বাস করে।
ড. মঈন খান আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়ণ সত্ত্বেও পিছু হটেনি। হাজার হাজার নেতা-কর্মী মামলা-জমা সত্ত্বেও দলের প্রতি আনুগত্য দাঁড়িয়েছে। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণ নেতা তারেক রহমান দিক নির্দেশনা দিয়ে এসেছেন, যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান জনমুখী আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র ও জনতা একসঙ্গে রাস্তায় নেমে স্বৈরাচার সরকারের পতনের সূচনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক রাজনীতিক দল এবং পথভ্রষ্ট দল বাংলাদেশে দেখেছি, যার অন্যতম হচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগ। তাদের রাজনৈতিক পরিণতি হলো দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়া। তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো দল যেন ভবিষ্যতে একই অবস্থা না দেখে, সেজন্য সবাই সজাগ থাকতে হবে।
ড. খানের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, বর্তমান সরকার কর্তৃক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন এবং দেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার কথা। তিনি বলেন, সংস্কার এবং ন্যায়বিচার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা একদিনের ব্যাপার নয়। তিনি স্বৈরাচারী সরকারের ‘উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র’ নীতি পুরোপুরি ভুয়া ছিল উল্লেখ করে বলেন, এখন আমরা আগে নির্বাচন ও গণতন্ত্র দেখতে চাই।
তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, বিএনপি নিয়মনীতি মেনে চলবে, কারো উপর জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগ করবে না এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করে জনগণের ভোট ও গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল থাকবে। তিনি বলেন, বিএনপি একটি ভিন্ন ধরণের রাজনৈতিক দল যারা মানুষের সেবায় উৎসর্গীকৃত। তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, বিএনপি যেন কখনোই আওয়ামী লীগের মতো পথভ্রষ্ট হয়ে না পড়ে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বীরমুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্য সচিব মামুন-অর-রশিদ সহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের দলের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও মহিলা দলের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।







