ঢাকা | শুক্রবার | ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ভয়ংকরভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে

দেশজুড়ে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরকারের মশা নিধন কার্যক্রমের দুর্বলতার কারণে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মে মাসের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছর শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জানুয়ারি মাসে ১,১৬১ জন, ফেব্রুয়ারি ৩৭৪ জন, মার্চ ৩৩৬ জন এবং এপ্রিল মাসে ৭০১ জন ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু মে মাস থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হতে থাকে এবং জুনে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, বিশেষত ঢাকা শহরের বাইরের জেলা, যেমন বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি।

এপর্যন্ত ২০২৪ সালের শুরু থেকে দেশে মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ২৯৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৪২৯ জন, যদিও নতুন কোনও মৃত্যু ঘটেনি। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শনাক্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় (সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে) ১৪৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭ জন, ঢাকা বিভাগের বাইরের এলাকায় ৬১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৫ জন, খুলনা বিভাগের বাইরের এলাকায় ২১ জন এবং রাজশাহী বিভাগের বাইরের এলাকায় ৫৪ জন রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত এ বছর মোট ৯ হাজার ৮৭ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এদিন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৫৯.১ শতাংশ এবং নারীর সংখ্যা ৪০.৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যদিও গত ২৪ ঘণ্টায় কোনও মৃত্যু ঘটেনি, তবে এ বছর এখন পর্যন্ত ৪২ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন রাজশাহী এলাকার বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এডিস মশার বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, “মে মাসের তুলনায় জুন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে জুলাইয়ে আক্রান্ত ৪ থেকে ৫ গুণ এবং আগস্টে ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।”

যদিও ২০২৩ সালে পুরো বছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জন, এবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৯৬ জনে, যা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের অবস্থান ধারণ করে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবেলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।