ঢাকা | সোমবার | ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে মশা নিধনের কার্যক্রমে দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বছরের শুরুতে ডেঙ্গু রোগীসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। জানুয়ারি মাসে হাসপাতালে ভর্তি হন ১,১৬১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৭৪, মার্চে ৩৩৬ এবং এপ্রিল মাসে ৭০১ জন। কিন্তু মে মাস থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং জুনে এসে তা ভীতিজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। বিশেষ করে ঢাকা শহরের বাইরের জেলা বিশেষ করে বরগুনায় ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

চালু বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৯৬ জনে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হিসেবে যোগ হয়েছে ৪২৯ জন, যদিও এ সময়ে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন শনাক্ত ৪২৯ জন রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগের সিটির বাইরে ১৪৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সিটির বাইরে ৫৭ জন, ঢাকা বিভাগের সিটির বাইরে ৬১ জন, ঢাকা উত্তর সিটির ৪২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৫ জন, খুলনা বিভাগের সিটির বাইরে ২১ জন এবং রাজশাহী বিভাগের সিটির বাইরে ৫৪ জন রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে গেছেন। এই বছর এখন পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন।

অধিকাংশ আক্রান্ত পুরুষ; চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ৫৯.১ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০.৯ শতাংশ নারী। যদিও এখন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর কোনো ঘটনা না ঘটলেও এই বছর মোট ৪২ জন রোগী ডেঙ্গুতে মারা গেছেন, যেখানে একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানান, ‘মে মাসের তুলনায় জুনে আক্রান্তের সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে জুলাই মাসে চার থেকে পাঁচগুণ এবং আগস্ট মাসে দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।’

তথ্য মতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০,২৯৬ জন। এর আগের বছর, ২০২৩ সালে মোট ৩,২১,১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় এবং ১,৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শেষ হিসাব অনুযায়ী ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার আরও বিশদ হবে।