ঢাকা | বুধবার | ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৪ মার্চ থেকে প্রতি শনিবার সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমাতে আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি শনিবার সারাদেশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১১ মার্চ) তাঁর বার্তাটিতে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষকে এ কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। পরে বার্তাটি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জনগণকে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ এখন মানুষকে প্রাণহানির দিকে নিয়ে যেতে পারে; তবে সবাই যদি সতর্ক ও সচেতন হয়, আমরা এ রোগগুলো প্রতিরোধ করতে পারি।’’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির জলে ডিম পাড়ে; মাত্র তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পূর্বপ্রতিষ্ঠিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী জনগণকে অনুরোধ করেছেন যে, ফুলের টবে জমে থাকা পানি, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা, ছাদে জমে থাকা পানি কিংবা নর্দমা—এসব জায়গায় যাতে পানি না জমে তা নিশ্চিত করতে হবে। পানির ট্যাংক ঘন ঘন ঢেকে রাখা, হাঁড়ি-বাটি উল্টে রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একবার বাড়ি-আশপাশ পরিষ্কার করার পরামর্শও তিনি দিয়েছেন। এছাড়া ড্রেন পরিষ্কার রাখা ও পরিত্যক্ত জায়গাগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘সাধারণত বর্ষাকালে—বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত—ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তবে নিয়ন্ত্রিত নজরদারির মাধ্যমে যেকোনো সময়ে আক্রান্ত হওয়া ঠেকানো সম্ভব।’’ তিনি দেশের স্বাস্থ্যনীতির মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘‘প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম।’’

আহ্বান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—প্রতিটি মানুষকে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রেখে, প্রতিবেশীদের সতর্ক করে এবং স্থানীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই লড়াইয়ে সামিল হতে হবে। বার্তার শেষে তিনি সবাইকে নিজের পাশাপাশি অন্যদের সুরক্ষায় সচেতন থাকার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

সরকারি এই সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্থানীয় প্রশাসন, জাতীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনগণকে বলা হয়েছে নিয়মিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা।