ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তানভীর-শরিফুলের বল Shooting রাখায় ঢাকাকে ধসে পড়তে হলো, ১০ উইকেটে জিতল চট্টগ্রাম রয়্যালস

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালস দুর্দান্ত এক জয় অর্জন করেছে, তারা ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চট্টগ্রাম দলের দুই ওপেনার অ্যাডাম রশিংটন এবং মোহাম্মদ নাঈম শেখের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে দলের শুরুটা ছিল খুবই শক্তিশালী। বাকিটা ম্যাচের পুরোটা জুড়ে তারা কোনো উইকেট না হারিয়ে সফলভাবে জয় ছুঁয়েছে। লক্ষ্য ছিল ১২৩ রান, যা চট্টগ্রামের জন্য খুবই সহজ ছিল। তারা শুরু থেকেই ঢাকার বোলারদের দাপুটে আক্রমণে আঘাত হানে। রশিংটন ৩৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬০ রান করেন, আর নাঈম শেখ ৪০ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত থাকলেন ৫৬ রান করে। তারা খুবই কম সময়ে টার্গেটটি ছুঁয়ে ফেলেন এবং দলকে জয় এনে দেন। ১২.৪ ওভারে, অর্থাৎ হাতে ৪৪ বল থাকতেই ম্যাচটি শেষ করে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

অন্যদিকে, টস জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ঢাকাকে প্রথমে ব্যাটিং করতে আমন্ত্রণ জানান। ঢাকার ইনিংস শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে, পেসার শরিফুল ইসলামের ধারালো বোলিংয়ে প্রথম ওভারে দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও জুবাইদ আকবরি বিদায় নেন। এরপর মধ্যম স্তরেও ব্যর্থতার মুখে পড়ে ঢাকা। উসমান খান ২১ রান করলেও শামীম, মিঠুন ও সাব্বিররা দ্রুত আউট হন। এই বিপর্যয় সামাল দিতে অষ্টম উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও নাসির হোসেন ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন, যার কারণে ঢাকা ১০০ রানের কোটাও পার করতে সমর্থ হয়। সাইফউদ্দিন ৩৩ রান করেন, আর নাসির ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত ঢাকার পুরো দল ১২২ রানে অলআউট হয়।

চট্টগ্রামের বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। তিনি ৪ ওভার বল করে মাত্র ৮ রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তার পাশাপাশি শরিফুল ইসলাম ১৮ রানে ৩ উইকেট ও শেখ মেহেদী হাসান দুটি উইকেট শিকার করেন। এই ধারাবাহিক এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের চাপের মধ্য দিয়ে ওপেনারদের দাপুটে ব্যাটিং ম্যাচে ঢাকার ফেরার সুযোগটাই রখে দেননি। এই বিশাল জয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের পয়েন্ট টেবিলে তারা অবস্থান উন্নত করে এবং দলটির আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ঢাকার ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে রয়ে গেল, এবং তারা শুরুতেই বড় ব্যবধানে হেরে বিপদে পড়ে গেল টুর্নামেন্টের প্রথমদিকে।