দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি গভীর সমস্যায় পড়ায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ও দেশের মূল তেল ডিপোগুলোর সুরক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত চালু হয়েছে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে দ্রুত পরিবর্তিত তেল চাহিদার কারণে কোনো অপ্রতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই সামরিক উপস্থিতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন তেল ডিপো ও পাম্পের ওপর তীব্র চাহিদা বাড়তে থাকায় সরবরাহ সিস্টেম পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার দিকে এগোতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংরক্ষণাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় হবে এবং তেল সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সরকারের প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যেমন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের মূল জ্বালানি ডিপো। এসব স্থানে পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকায় এগুলোর নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যে এই সব მიმართულিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর সাহায্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অর্থাৎ, করোনা বা অন্য কোনও পরিস্থিতির কারণে রেশনিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও ডিপোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন ও উত্তেজনা দেখা দিচ্ছিল। এর প্রেক্ষিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সরকার বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে, যেন অপ্রিয় বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি না সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট ডিলার ও বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এই নির্দেশনা পালন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর মোতায়েনের মাধ্যমে ভোক্তা ও পরিবহন চালকদের মাঝে বিভ্রান্তি কমবে এবং তেলের বিতরণ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করছে।








