ঢাকা | শনিবার | ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

দাউদকান্দির বলদাখাল দখল ও দূষণে অবস্থা ভয়াবহ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলদাখাল এখন দখল ও দূষণের চরম বিপর্যয়ে পড়েছে। একসময় স্বচ্ছ পানির সরোবর এই খালটি ছিল দাউদকান্দির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎস, যেখানে নৌকা চলাচল করত এবং জেলেরা মাছ ধরত। তবে বর্তমানে এই খালটি কেবলই মৃতপ্রায়। অবৈধ দখলে শুধু স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের ক্ষতি হয়নি, বরং এর জলাধারই সংকটের মুখে পড়েছে। খালের অনেক অংশে স্থায়ী দোকানপাট ও অবকাঠামো নির্মাণ করে দখলদাররা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, এই দখলদাররা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, যারা দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

প্রায় দুই বছর আগে দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ উদ্যোগে সাহাপাড়া এলাকা থেকে দখলমুক্ত করে বলদাখালের প্রায় অর্ধেক অংশ পরিষ্কার করেন। তবে তাঁর বদলির পরে আবারও দখলদাররা ফিরে এসেছে এবং খালটি আবারো দখলের শিকার হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পৌরসভার অন্তত দুই কিলোমিটার ব্যাপী খালের অধিকাংশ অংশই অবৈধ দখলে। এর ফলে এলাকার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনজীবন দুরাবস্থার দিকে যাচ্ছে। প্রভাবশালী দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় মানুষের মনে উদ্বেগ বাড়ছে, এই খাল কি কখনো স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসবে তার ঠিক নেই।

অবৈধ দখল ও আবর্জনার কারণে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। শীত মৌসুমে এই এলাকায় পানি শূন্য হয়ে যায়। জমে থাকা কচুরিপানা, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা মশা-মাছির সংখ্যা বাড়াচ্ছে। আমরা দেখছি, এই খালটি একসময় ছিল মাছ ধরা এবং নৌচালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবিধ স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য মতে, ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার এখানে চলাচল করত, যা দাউদকান্দির অর্থনীতির একটি মূলকেন্দ্র ছিল।

গোমতী নদীর শাখা হিসেবে এই খালটি অতীতে নদী-মাঝের সহজ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন।

দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক রেদওয়া ইসলাম বলেন, বলদাখালকে দূষণমুক্ত রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অভিযান চলমান রয়েছে। কেউ যদি অবৈধ দখল করে অতিরিক্ত জমি বা খালের অংশ দখল করে, তাহলে আইনি ব্যবস্থা ও উচ্ছেদ কার্যক্রম নেওয়া হবে।

এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেছেন, শুধুমাত্র সাময়িক অভিযান চালালেই হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যথাযথ ও দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী বলদাখালকে দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। নাহলে দখল ও দূষণের চাপে এই খালটি পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শঙ্কা।