ঢাকা | রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম স্থগিত

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যেখানে সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে যাত্রী, বিমানবন্দরকর্মী ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ক্রুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুবাই থেকে অবতরণ ও উড্ডয়নের সব ধরণের বিমান এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ চালায়, যেখানে তেহরান শুধুমাত্র ইসরায়েলকেই টার্গেট করেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়ে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো এখন এই সংঘর্ষের সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধ এখন ওই অঞ্চলের অন্তত ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এক বিরাট আঞ্চলিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

দুবাই বিমানবন্দরের এই অপ্রত্যাশিত বন্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী আকাশপথের যোগাযোগে বড় অঘটন ঘটে গেছে। এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকাগামী হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রীরা এখন বিভিন্ন গন্তব্যে আটকা পড়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পরবর্তী পরিস্থিতির আপডেট আসা পর্যন্ত রওনা না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে অঞ্চলটির অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

সম্পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগের পরিস্থিতিতে পৌঁছে গেছে। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং মার্কিন-ইসরায়েলি শক্ত জোটের অব্যাহত আক্রমণের ফলে পরিস্থিতির উত্তরণ কবে হবে, তা নিয়ে গভীর অজ্ঞতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই সংঘাতের দ্রুত সমাধানের দাবি জানালেও মাঠের বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। আকাশপথে এই স্থবিরতা কেবল পর্যটন ক্ষেত্রে নয়, বরং বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ও বাণিজ্যেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্ববাজারের বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। বর্তমানে প্রতীক্ষায় রয়েছেন সবাই, মধ্যপ্রাচ্যের পরবর্তী রূপরেখা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য।