ঢাকা | রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

দুবাই থেকে এমিরেটসের সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষের পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং দুবাই বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের শব্দ শোনার প্রেক্ষাপটে দুবাই ভিত্তিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এমিরেটস একটি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) এয়ারলাইন্সের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, তাদের সমস্ত ফ্লাইট এখন আর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকবে না। এক জরুরি বার্তায় জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দুবাই থেকে কোনো উড্ডয়ন হবে না এবং কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সেখানে অবতরণ করবে না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন যাত্রী ও ক্রুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এমিরেটসের পক্ষ থেকে সরকারি ও ব্যক্তিগত যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা চেক-ইন সুবিধাও স্থগিত করেছে সংস্থাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (এক্স/সাবেক টুইটার) দেয়া এক বিবৃতিতে এমিরেটস জানিয়েছে, এই জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার, এবং এ বিষয়ে কোনো আপোষ করা হবে না। পরিস্থিতি পড়ে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী আপডেট যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

অপ্রত্যাশিত ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য অতিরক্ত রি-বুকিং, রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের সুবিধাও ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব যাত্রী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ভ্রমণের টিকিট বুক করেছিলেন, তারা চাইলে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তাদের যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। এ জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল বা তার আগে যেকোনো সময়ের জন্য নতুন ফ্লাইটে বুকিং দিতে পারবেন। সরাসরি এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কিনে থাকলে অথবা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে কেনা টিকিট থাকলে, সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুবাই বিমানবন্দর পরিদর্শনের ওপর বিস্ফোরণের খবর এ অঞ্চলের বিমান চলাচলের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনেছে। এই আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাব বন্ধ থাকায় এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করে দেওয়া হয়েছে ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যত দীর্ঘ সময়ের জন্য জোরদার থাকবে, তত বেশি অচলাবস্থা চলতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প বর্তমানে এক চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।