ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

দৈনিক ২৫০০ কোটি টাকার আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের চলমান আন্দোলনের ফলে দেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যবসায় প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এই অচলাবস্থা দ্রুত শেষ করার জন্য ব্যবসায়ীরা জরুরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে কর্মচারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির কারণে বাণিজ্যের ওপর পড়া নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিস্তারিতভাবে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ) জানান, এনবিআরের অন্তর্ভুক্ত দপ্তরগুলোতে কর্মীদের কলম বিরতি ও শাটডাউনের কারণে আমদানি ও রপ্তানির কাজ মারাত্মক বাধার মুখে পড়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মসূচির কারণে প্রস্তুতকারী ও রপ্তানিকারকরা ঠিক সময়ে কাঁচামাল খালাস করতে পারছেন না, যার ফলে রপ্তানি বিলম্বিত হচ্ছে এবং পণ্য পোর্ট বা বিমানবন্দরে থাকার কারণে বৃষ্টি ও রোদে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সময় দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে, যা ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি অনেক ক্রেতার দিক থেকে আদেশ বাতিলের হুমকি সৃষ্টি করেছে। পোর্ট ড্যামারেজের খরচ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে চারগুণ বাড়ায় ব্যবসার খরচও বেশি হয়েছে। এই সংকটের সুরাহা না হলে দেশের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, তৈরি পোশাক, চামড়া, সিরামিক, ফার্মাসিউটিক্যালসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্প এখন শীতকালীন মৌসুমের পণ্য উৎপাদনে ব্যস্ত। এই সময়ে পণ্য ঠিক সময়ে রপ্তানি করা না গেলেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসহীনতা বাড়বে এবং অর্ডারগুলো পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতি।

তারা সরকারকে অনুরোধ করেছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নেতৃত্বে তাত্ক্ষণিক আলোচনা করে এনবিআরের কর্মসূচির স্থগিতাদেশ দিয়ে কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আহ্বান জানান, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে কলম বিরতি বা শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে দ্রুত কাজে যোগদান করার জন্য।

বাণিজ্য নেতারা আরও বলেন, তারা দেশের একটি দক্ষ ও সুবিধামুক্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠার পক্ষে, যা আমদানি-রপ্তানিতে দ্রুত সেবা প্রদান করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে বর্তমানে এনবিআরের চেয়ারম্যান অপসারণ কোনো সফলতা দেবে না বলে তারা মনে করছেন।

অবশেষে, ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে পাঁচটি সুপারিশ জানিয়েছেন – শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যক্রম চলমান রাখা, রাজস্ব নীতির আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সেবা জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সাপ্লাই চেইনের উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, এলএফএমইএবি, বিসিএমইএ, বিএফএলএলএফইএ ও বিপিজিএমইএসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সমিতির শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা সকলেই দ্রুত এই সংকটের সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।