ঢাকা | রবিবার | ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নড়াইলে গরু চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে পিটিয়ে প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের মালোপাড়ায় গরু চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে পিটিয়ে আনোয়ার হোসেন (৩২) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। আনোয়ার ওই অঞ্চলের বাসিন্দা; তিনি নিহত কাওছার মোল্লার ছেলে।

ঘটনার প্রতিবাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসগ্রাম বাজারে ব্যাপক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসী বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করে; মানববন্ধনে কয়েকশ লোক অংশ নেন। এ ঘটনায় নড়াইল sadar থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, আনোয়ার ২৪ জুন সকালে বাড়ি থেকে বের হন ও ফিরে আসেননি। পরের দিন সকালে পরিজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল জেলা হাসপাতালে দেখেন। এজাহারে বলা হয়, উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূরব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাসসহ কয়েকজন তাকে চুরির অভিযোগে ধরে নিয়ে যান এবং একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর মারধর করেন। মারধরের ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে আনোয়ারকে সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে নাম থাকা প্রসেনজিত বিশ্বাসের মা ছায়া রানী (ছদ্মনাম) দাবি করেছেন, তার দেখা মতে আনোয়ার একটি ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। তার ছেলে চিৎকার করে চোর বললে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়; কে বা কারা মারধর করেছে তা তিনি জানেন না এবং তার ছেলে আনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে দাবি করেন।

সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, প্রথমে মারধরের অভিযোগ ছিল, তবে ঘটনার Severity ও নিহতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। তিনি জানান, অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও কঠোর বিচারের দাবি তুলেছেন।