ঢাকা | মঙ্গলবার | ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন বাংলা ওয়েব সিরিজে ভয়ংকর খলচরিত্রে মেইয়াং চ্যাং

দন্তচিকিৎসার পেশা ছেড়ে রিয়্যালিটি শো থেকেই বিনোদন জগতে উঠে আসা চীনা বংশোদ্ভূত ভারতীয় শিল্পী মেইয়াং চ্যাং এবার এক ভিন্ন রূপে দেখা দেবেন। সাধারণত তাকে পর্দায় নায়কের বন্ধু বা হাসিখুশি, সহজ-সরল চরিত্রে দেখা গেলেও, আসন্ন বাংলা ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’-তে তিনি এক ভয়ংকর খলচরিত্রে অভিনয় করছেন। গায়ক, অভিনেতা ও সঞ্চালক হিসেবে পরিচিত মেইয়াংয়ের এই অভিবাবকী পরিবর্তন দর্শকমহলে ইতিমধ্যেই কৌতূহল জাগিয়েছে।

সিরিজে মেইয়াং অভিনীত চরিত্রের নাম ‘ডোডো’—এক অন্ধকার জগতের দুর্ধর্ষ অপরাধী। বার্তায় বলা হয়েছে, ডোডো ‘ঈশ্বর সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত; সে নিজেকে সর্বশক্তিমান মনে করে এবং মানুষকে শারীরিক যন্ত্রণার মাধ্যমে বা হত্যা করে পৈশাচিক আনন্দ পান। এমন মনস্তাত্ত্বিকভাবে জটিল ও নেতিবাচক চরিত্রটি অনুধাবন করে ফুটিয়ে তোলা মেইয়াংয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তিনি জানালেন, এই ভিন্নপ্রকার চরিত্র তাঁর পূর্বের রোমান্টিক বা লাজুক ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি উল্টে দেবে।

ভারতীয় চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতায় মেইয়াং তার দর্শনীয় সীমাবদ্ধতাগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। সবসময় এমন নয় যে একে নায়ক হিসেবে দেখা হবে—প্রথাগতভাবে নায়ককে যে ধরনের চেহারা বা দায়সারা দৃষ্টিভঙ্গি আশা করা হয়, তার কারণেই তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুতে প্রাধান্য ছিল পার্শ্ব চরিত্র বা নায়কের বন্ধু চরিত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে এখন তিনি ডোডোর মতো জটিল ও বহুমাত্রিক চরিত্রে সুযোগ পাচ্ছেন, যা একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি করছে।

নিজেকে মনে-প্রাণে বাঙালি মনে করেন মেইয়াং। কলকাতার চীনা সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও মাতৃভূমির প্রতি টান স্পষ্ট। সিরিজের কাজের সুবিধার্থে তিনি নিয়মিত বাংলা অনুশীলন করেছেন এবং সাবলীলভাবে বাংলা সংলাপ বলতে শিখেছেন। যদিও তাঁর আগে দক্ষিণ ভারতীয় ভাষায় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তবু বাংলা শেখাটা তিনি অনেক সহজ ও আনন্দদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন। বাংলা দক্ষতা চরিত্রের আবেগ আরও প্রাঞ্জলভাবে ফুটিয়ে তুলতে অনেক সাহায্য করেছে।

‘তারকাটা’-তে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মেইয়াংকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে। শুটিংয়ের বিরতিতে তাঁদের বন্ধুত্বপূর্ণ আড্ডা কাজের মানকে আরও উন্নত করেছে বলে মেইয়াং উল্লেখ করেছেন। অপরাধ জগত ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব উভয়ই জাঁকিয়ে থাকা এই সিরিজটি বাংলা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের। দর্শক এখন অপেক্ষায়, কবে দেখা যাবে ঐ পরিচিত মিষ্টি মুখ থেকে বিকৃত ও ভয়ঙ্কর ‘ডোডো’-র সেই রূপ।