ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন বাংলাদেশ ধারা বদলে পুরোনো ব্যবস্থা আটকাতে পারে না: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রতিষ্ঠিত নতুন বাংলাদেশ পুরোনো ব্যবস্থায় চলার উপযোগী নয়। রবিবার (৬ জুলাই) চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘বিচার, সংস্কার, তারপর নির্বাচন’ স্লোগানে আয়োজিত জুলাই পদযাত্রার পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

এনসিপির নেতারা পূর্বে নওগাঁ জেলা থেকে দুপুর ২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তিমোড়ে এসে যোগদান করেন, এরপর পদযাত্রা শুরু হয়ে বাতেনখাঁ মোড়, নীমতলা মোড়, বড় ইন্দারা মোড়, গাবতলা মোড় ও ক্লাব সুপার মার্কেট হয়ে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে গিয়ে সমাপ্ত হয়। সেখানে দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

নাহিদ ইসলাম পথসভায় বলেন, ‘আমরা এসেছি জুলাই অভ্যুত্থানের বার্তা নিয়ে, যা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখায়। এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ, মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক বিচার পদ্ধতি চাই। জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা আমাদের।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বৈষম্য বিদ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ জাতীয় বৈষম্য দূর করতে হবে এবং আমরা সেই উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখি।’

সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবৈধ কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে, যা আমরা কখনো মেনে নেব না।’

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘সীমান্তে দাদাদের বাহাদুরির দিন শেষ। যদি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, লাশ বাড়তে থাকে, আমরা লং মার্চ ঘোষণা করবো এবং নিজেরাই আমাদের সীমান্ত রক্ষা করবো।’

দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখতে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনগণকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগ নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে, যা দিল্লি সরকারও সমর্থন দিয়েছে এবং সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

সাবেক এই ছাত্র নেতা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আর ভারত কোনো অবস্থাতেই আমাদের প্রতি আঙুল উঁচিয়ে কথা বলবে না। আমরা চাই না আর কেউ আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হোক। ছাত্র-জনতার ত্যাগে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ কখনো পুরানো ব্যবস্থায় আটকে থাকতে পারে না।’

অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এর পর তারা এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয় উদ্বোধন করে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন।