ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নতুন রঙের ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামের মাদককারবারিরা নতুন কৌশল চালু করেছে

দেশের মাদকবিরোধী অভিযানে লাল রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট ধরা পড়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে এবার প্রথমবারের মতো সবুজ রঙের ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই অভিযানে বলা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলা দিয়ে মাদক কারবারিরা নতুন রঙের ইয়াবা নিয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে।

গত ১৯ জুন রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার আতুরার ডিপো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খোন্দকারের তত্ত্বাবধানে পরিদর্শক লোকাশীস চাকমা অভিযান চালিয়ে সবুজ রঙের ২০০ পিস ইয়াবাসহ ডালিম প্রকাশ বাবু (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন। তিনি ওই এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খোন্দকার জানান, ‘‘দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবুজ রঙের ইয়াবা উদ্ধার করা হলো। মাদক চক্র আইনের আড়ালে থাকার জন্য এমন নতুন রঙের ট্যাবলেট তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’’

তথ্য অনুযায়ী, দেশে অধিকাংশ ইয়াবা এখনো লাল রঙের হলেও সম্প্রতি সাদা, হলুদ, কালো এবং এবার সবুজ রঙের ইয়াবাও বাজারে ঢুকেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেট রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে মাদক বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ধোঁকা দিতে চাইছে।

সীমান্তে থাকা একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী টেকনাফ, উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, রামু এলাকায় থেকে এসব নতুন ধরনের ইয়াবা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। নতুন রঙের ইয়াবার চালান কম হলেও মূল্য বেশি, কারণ পাচারকারীরা এগুলোকে উচ্চমানের মাদক হিসেবে বাজারজাত করছে।

এছাড়া, ইয়াবার ওপর বিভিন্ন কোড বা প্রতীক দিয়ে ফোরাম বা চক্র চিহ্নিত করা হয় এবং কোন বাজারে বিক্রি হবে তা গোপন রাখা হয়। এই সাংকেতিক ব্যবস্থাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে যেতে সাহায্য করে।

এদিকে, মাদক ব্যবসা সীমান্ত পেরিয়ে দেশের অভ্যন্তরে সামাজিকভাবে প্রচুর মাত্রায় বিস্তার লাভ করছে। অনেক পরিবার এখন মাদকের ব্যবসাকে ‘পেশা’ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যা থেকে সামাজিক সমস্যা আরো জটিল হচ্ছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, মাদক ব্যবসা থামানো এখন বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে।