ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে পবিপ্রবির অধ্যাপক তিন বছর অবনমিত

নারী শিক্ষার্থীকে মানসিক নিপীড়ন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আবদুল আহাদ বিশ্বাসকে তিন বছরের জন্য সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে অবনমিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন কর্তৃক স্বাক্ষরিত ১৯ জুনের অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

চাকরি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বিশ্লেষণ করে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৫৫তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আদেশে বলা হয়েছে, তিন বছরের জন্য অবনমনের সময় ড. আহাদ বিশ্বাস কোনো ক্লাস নেবেন না, পরীক্ষা পরিচালনায় অংশ নেবেন না এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণার তত্ত্বাবধানেও থাকবে না। এছাড়া, এই সময়ের মধ্যে কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ বা পূর্বের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঘটলে উপাচার্য তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারবেন, আর এ বিষয়ে তার আপিলের সুযোগ নেই।

তিন বছর পর নির্ধারিত শর্ত পূরণে তিনি পূর্বের পদ ও স্কেলে পশু বিজ্ঞান বিভাগে পুনরায় যোগ দিতে পারবেন। তবে অবনমনের এই সময়াজ্ঞান তাকে সক্রিয় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে না।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক নারী শিক্ষার্থী তাকে মানসিক নিপীড়ন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। ওই শিক্ষার্থী পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রীরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ড. আহাদ দীর্ঘদিন তাকে মানসিকভাবে প্রতিনিধানসহ অপমানজনক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ বলেছিলেন এবং একাধিকবার যৌনহেনস্তার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এছাড়া, ড. আহাদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নম্বর আটকে রাখা, পরীক্ষায় অসৎভাবে নম্বর কাটা এবং অনলাইন ক্লাস দীর্ঘক্ষণ নেওয়ার অভিযোগও ছিল। এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর ওই শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়।

বর্তমানে এই বিষয়ে ড. আহাদ বিশ্বাসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ জানিয়েছে।