ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের বাজারে কষ্ট, দাম উর্ধ্বগতি অব্যাহত

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন সবজি ও কাঁচামরিচের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। একমাত্র সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের সবজির দাম কেজিকে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পেঁয়াজ, ডিম এবং মুরগির দামেরও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে ন্যূনতম ও মাঝারি আয়ের মানুষজনকে দৈনন্দিন প্রয়োজন সামলাতে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

বাজারের খুচরা পর্যায়ে, পেঁয়াজের দাম এক নিমেষেই ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন কেজিতে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও প্রতি ডজন ১০ টাকা বেড়ে গেছে। যদিও ইলিশের দাম কিছুটা কমার সাক্ষী হয়েছে সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের সরবরাহ বাজারে কিছুটা কমে যাওয়ায় ও ডিমের চাহিদা বেড়ে যাওয়া স্বত্ত্বেও সরবরাহ অপর্যাপ্ত থাকায় এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা আশা করছেন সরবরাহ ঠিক থাকলেই অচিরেই দাম কমে আসবে।

রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে চার-পাঁচ দিন আগেও পেঁয়াজ কেজিতে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা পৌঁছে গেছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফসলের অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় এবং তীব্র বৃষ্টির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে দাম বাড়ছে।

ক্রেতারা জানান, এই পরিস্থিতি তাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। চাল, সবজিসহ ডিম ও মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেককে বাজার থেকে কেনাকাটার তালিকা সংকীর্ণ করতে হচ্ছে।

সবজির দামের দিক থেকে গোল বেগুন কেজিকে এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও বাড়তি, যেমন পটোল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি।

বাজারে খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে বাড়ে; গত মাসে ৭.৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে যা জুন মাসের ৭.৩৯ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইলিশের বাজারে দামের কিছুটা স্বস্তি দেখা গেল। ছোট সাইজের ইলিশের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, মাঝারি সাইজের ইলিশের দাম ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা, এবং বড় ইলিশ ২০০০ থেকে ২৩শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য মাছ যেমন রুই, কাতলা, শিং, মাগুর, তেলাপিয়া আদির দাম আগের মতোই রয়েছে।

গরুর মাংসের দাম সামান্য কমে কেজিতে ৭৫০-৭৮০ টাকা হলেও খাসির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মুরগির মাংসের বাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী ধারা; ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। সোনালি মুরগির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

চালের বাজারে কোনো স্বস্তি নেই, দাম প্রয়োজনে ঊর্ধ্বগামীই রয়েছে। মোটা চালের দাম ৬০ টাকার বেশি, ভালো মানের চালের দাম ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

এই কঠিন বাজার পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা তাদের নিত্যপণ্যের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের সংসার চলানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।