ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিসি বদল সমর্থন করবেন সরকার: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন বা জেলা প্রশাসক (ডিসি) বদল সুপারিশ করলে সরকার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ এই বিষয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের যে কোনো সিদ্ধান্ত বা পরামর্শ সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সরকার মাননীয় কমিশনের প্রত্যেকটি চাহিদাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। যদি মনে হয় যে, মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে ডিসি বা অন্য কোন পদে পরিবর্তন আনাটা অপরিহার্য, তবে সরকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ করে, মাঠ পর্যায়ের কিছু ডিসি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। তারা বদলির দাবি তোলে। এত কম সময় রেখেও, এই পরিবর্তন সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সরকার নিজেরাই এই বিষয়ে কোনো রদবদলের ঘোষণা দেয় না। তবে, যদি নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত হয় যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিসি বা অন্য কর্মকর্তাদের বদল করাটা জরুরি, তবে সে অনুযায়ী তারা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিবর্তনের আগে কমিশনকে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে দেখে নিতেই হবে।

মাঠ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের প্রসঙ্গে ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, তিনি এখনো বড় কোনো অস্বাভাবিক বা বিচ্যুতি দেখেননি। তাঁর মতে, নির্বাচনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় তৎকালীন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়, এবং সব পক্ষ খুশি হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টা স্বাভাবিক। প্রার্থীদের পরিস্থিতি আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে, যারা কোনও সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বা আপত্তি জানাচ্ছেন, তাদের জন্য আইনি সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে শত শত প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করে অভিযোগ দিচ্ছেন।

অভিযোগের প্রসঙ্গে সচিব আরও বলেন, আজকের যুগে তথ্যের মুক্ত প্রবাহের কারণে যে কেউ যেকোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির অভিযোগ অপ্রত্যাশিত নয়। তবে, প্রশাসন কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের পক্ষে কাজ করছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ তাঁর নজরে আসেনি। তিনি আশ্বস্ত করেন, যদি সত্যিই কোনও অব্যবস্থা বা দুর্নীতি হয়, তা মেধা ও যোগ্যতার (মেরিট) ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, এবং তার জন্য সরকারের সব বিভাগ এখন নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে—এমন আশ্বাস ব্যক্ত করেন তিনি।