ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনে ভয় পেলে রাজনীতি নয়, এনজিওতেই কাটুক সময়: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণে ভয় পান, তাদের উচিত রাজনীতির চেয়ে এনজিও বা প্রেসার গ্রুপের মাধ্যমে সমাজ সেবা চালানো। তিনি জানান, ‘‘নির্বাচনে যারা ভয়ে পিছিয়ে যান, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার প্রয়োজন নেই। বরং তারা প্রেসার গ্রুপ বা এনজিওর হয়ে কাজ করতে পারেন। রাজনীতি করবেন অথচ নির্বাচন এড়িয়ে যাবেন এবং পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবেন—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’’

রবিবার (২৭ জুলাই) ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু আরও বলেন, যেসব দেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন দীর্ঘ সময়ে স্থগিত হয়েছে, সেখানে দেশগুলো বিভাজন, গৃহযুদ্ধ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার শিকার হয়েছে। তবে যারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, তারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন দেখিয়েছে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে তিনি বলেন, এই আন্দোলন নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও কেউ এটিকে ‘হাইজ্যাক’ করতে পারবে না। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয় বরং অধিকার আদায়ের একটি ধারাবাহিক আন্দোলন যা বাংলাদেশের জনগণের রক্তস্নাত ইতিহাসের অংশ।

বিএনপির এই নেতা জানিয়েছেন, ‘‘৫ আগস্টের স্মরণীয় দিনে শেখ হাসিনা না গেলে আমরা বাড়ি ফিরতাম না, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকত।’’ তিনি যোগ করেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ওপর জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

যদিও বিএনপি নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছেন, তবুও দলটি কখনো এই আন্দোলনের সফলতা এককভাবে দাবি করেনি বলেও জানান তিনি।

আমীর খসরু বলেন, ‘‘গণ-অভ্যুত্থান সাফল্যমণ্ডিত হবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সব বিষয়ে সর্বজনীন ঐক্যমত্য থাকা বাধ্যতামূলক নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতভেদ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে জাতীয় স্বার্থে ঐক্য জরুরি। মতের বৈচিত্র্য ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। আমরা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করি না।’’

শেখ হাসিনার ‘পলায়নের’ পর দেশের মানুষে একটি মনোভাবগত পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন তিনি। ‘‘যারা এই পরিবর্তন বোঝার আগ্রহ দেখান না, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।’’

বিএনপির এই নেতার মতে, বর্তমানে নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণে অনেক পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করছেন না এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন।