ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব অর্থ দেওয়া হবে: অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে, সেটি সরকারের তরফ থেকে সরবরাহ করা হবে এবং এ নিয়ে কোনো সামগ্রিক সমস্যার আশঙ্কা নেই। বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব তথ্য দিয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আগামী জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়কাল সম্পর্কে জানিয়ে ছিলেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমান অর্থবছরের বাজেটে নির্বাচন কমিশনের জন্য মোট ২৯৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বরাদ্দ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে কাজে লাগানো হবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কpolitik সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, শুল্ক কমানো হলে বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো হত। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য, বিশ্ববাজারে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অবস্থান খুবই খারাপ নয়।

তাঁর কথায়, ‘পোশাক এবং নিট তৈরি খাত দ্রুত শুল্ক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, তবে বস্ত্র বোনায় কিছুটা সমস্যা থাকতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শুল্ক দর-কষাকষির সম্ভাবনা সম্পর্কে অর্থ উপদেষ্টা জানান, ইউএস চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথোপকথন হয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রতি তাদের মনোভাব ইতিবাচক। শেভরন ও মেটলাইফের অর্থায়নে তারা সন্তুষ্ট, কারণ বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত অর্থ প্রদান করছে।

হালনাগাদ এক আনুষ্ঠানিক চুক্তি গ্রহণের বিষয়টিও বর্তমানে আলোচনার পর্যায়, যেখানে কোন কোন পণ্যের শুল্ক কমানো হবে এবং কী কী আমদানি সহজতর করা হবে – সে বিষয়ে সমঝোতা হবে। তিনি আরও বলেন, এই দর-কষাকষি বহু পক্ষীয় নয়, তাই আলোচনা সবসময় গোপন এবং এর বিস্তারিত সবাই জানে না।

অর্থ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, গত এক বছরে দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন সংকট থেকে বেরিয়ে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে যা দেখার জন্য গভীর দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা স্বস্তির জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যদিও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও সময় প্রয়োজন।’

তাঁর মতে, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও শুল্কসহ নানা চ্যালেঞ্জ দেশ সামনের দিনগুলিতে মোকাবিলা করবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সময়োপযোগী ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির দিকে দ্রুত গতি আনা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সংস্কারের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যকর করা হয়েছে এবং কিছু সংস্কার মাঝারি ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। যেমন- ব্যাংক রেজল্যুশন, যেটি খানিকটা সময়সাপেক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি পরিষ্কার পথনকশা তৈরি করছে। পুঁজিবাজারেও মোটামুটি উন্নতি লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, পাশাপাশি এনবিএরের অধ্যাদেশগুলোর কিছু সংশোধনও আসছে।

এই সমস্ত উদ্যোগ দেশকে আরও দৃঢ় অর্থনৈতিক অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।