ঢাকা | শনিবার | ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের সঙ্গে আলোচনা করবে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি তার রাজনৈতিক জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু করবে বলে নিশ্চিত করেছেন দলের সিনিয়র নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, ‘‘আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনার জন্য এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছান যায়নি। তফসিল ঘোষণার পর ও নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হলে এই প্রক্রিয়া চালু হবে।’’

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির যোগাযোগ কমিটি এবং গণ অধিকার পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খসরু এই কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে তৎক্ষণাৎ আসন বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমাধান করা হবে। তফসিল ঘোষণার পরই সকল প্রাসঙ্গিক সমমনা দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করবে বিএনপি।’’

গণ অধিকার পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে খসরু জানান, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক মুহাম্মদ রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকের ফলাফল নিয়েও আলোচনা হয়। উক্ত বৈঠক থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচনের ঘোষণায় উভয় পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডার বাস্তবায়নসহ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি ও নীতি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেছি। আন্দোলনের সময় যেমন ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, ভবিষ্যতেও নির্বাচনে, সরকার গঠনে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করব।’’

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের চলমান বৈঠকের প্রসঙ্গে খসরু বলেন, ‘‘যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো একমত, সেসব বিষয়গুলোকে ভিত্তি করে সংস্কার প্রণয়ন হবে। অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক কোনো ব্যাপারে যেতে হবে না।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দর্শন ও লক্ষ্য রয়েছে, তাই সব বিষয়ে একমত হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বিএনপির কাছে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, অন্যনদের কাছে অন্য বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিন্নতা থাকবে। সংস্কারগুলো একমত হওয়া বিষয়ের ওপর আলোকপাত করবে এবং অন্যান্য বিষয় নির্বাচন সময় জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে।’’

এছাড়াও, খসরু বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ও তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা রয়েছে। ‘‘বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে ইশরাককে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনও অনুমোদন এবং মতামত দিয়েছে। তাই আইনীভাবে তিনি শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করা উচিত।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘বিএনপি ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উভয়েই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আইনের শাসন যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তাহলে ইশরাকের শপথ গ্রহণ স্বাভাবিক এবং এখন আমরা সরকারের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আশা করছি।’’