ঢাকা | বুধবার | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নোয়াখালীতে সংঘর্ষ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আরও ১৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ বুধবার পর্যন্ত তৃতীয় দফায় আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে এখন পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, রোববার (৭ জুন) রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যে, ঘটনায় উত্তেজনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে। ওই এলাকায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম (বাবু) নেতৃত্বে প্রায় এক হাজারের মতো নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল চলাকালে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয় এবং রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চালায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে।

ঘটনার জেরে পরের দিন শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। স্থানীয়রা জানায়, সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মসজিদের মাইকে ঘোষণার মাধ্যমে কাউকে লক্ষ্য করে নেমে ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেয়।

তারা আরো বলেছে, একই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পাল্টা ধাওয়া হিসেবে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী কালাদরাপ ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায় এবং তার এক অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনার পর এলাকাটিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে যায় এবং বিষয়টি দেশব্যাপী তোলপাড়ের সৃষ্টি করে।

বাঁধেরহাটে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করে এবং নিরাপত্তা জোরদারি করে। এছাড়া সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে; পুলিশ বলছে এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

ওসি কামরুল ইসলাম আরও বলেন, এই মামলার প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মোট ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনুষ্ঠিত আছে এবং এপর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।