ঢাকা | বুধবার | ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পদ্মা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪.৮০ কোটি টাকা টোল আদায়

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের মানুষ দেশের জোড়া প্রেমের বহুবচন এই ঈদে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। তাই ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পদ্মা সেতুতে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত এ সেতুর ইতিহাসের চতুর্থ সর্বোচ্চ টোল সংগ্রহের রেকর্ড। এই সময়ের মধ্যে দুই প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৩,৩৫১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, মাওয়া প্রান্ত থেকে সবচেয়ে বেশি যানবাহন পার হয়েছে। এই প্রান্ত দিয়ে এক দিনেই ২৮ হাজার ৬৭টি গাড়ি পার হয়ে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা টোল সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্তে ১৫ হাজার ২৮৪টি গাড়ি পার হয়েছে এবং সেখান থেকে টোল এসেছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। ঈদের আগে গতবারের তুলনায় এবার এক দিনে যানবাহনের পারাপার এবং টোল আদায়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পদ্মা সেতুর পরিচালনা বিভাগ জানিয়েছেন, এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড ছিল ২০২৫ সালের ৬ জুন, যখন এক দিনে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ টোল রেকর্ডও ঈদকেন্দ্রিক, যা ২০২৫ ও ২০২৪ সালে ঘটেছিল। এই চাপ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে এবং ঘরমুখো মানুষদের যাত্রা আরামদায়ক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে আগে থেকেই সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে মোট ১৯টি টোল বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ৭টি মূল বুথসহ মোট ১০টি ও জাজিরা প্রান্তে ৭টি মূল এবং ২টি মোটরসাইকেল বুথ সহ মোট ৯টি বুথ চালু রয়েছে। অতিরিক্ত যানজট কমাতে, মাওয়া প্রান্তে অস্থায়ী বুথেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তথাকথিত আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এইবারের ঈদযাত্রাকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যকর করে তুলেছে। মাওয়া ও জাজিরা প্লাজায় ইলেকট্র্রনিক টোল সংগ্রহ (ইটিসি) ও RFId কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা চালু থাকায় যানবাহনগুলোকে অপেক্ষার সময় কমে গেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতু সাইটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে টোল সংগ্রহের ফলে যাত্রা আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির ঝামেলা না করে আপনার গন্তব্যে সহজে পৌঁছাতে পারছেন।