ঢাকা | সোমবার | ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্ণ হওয়ায় আমরা একটি কর্মসূচি নিয়েছিলাম, যেখানে সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে অতীতের স্মৃতিচারণ করবো। সেই উদ্যোগ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছিল। কিন্তু এক বছর না যেতেই পরাজিত শক্তির নানা ষড়যন্ত্রের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।’

তিনি এই বক্তব্য রাখেন বুধবার (২৩ জুলাই) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংগঠিত বৈঠকে, যেখানে ১৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নেতাদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘যদিও রাজনৈতিক মতাদর্শে পার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে, তবুও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যকে আরো দৃঢ় করতে হবে। কারণ, ঐক্যের অভাবেই শত্রুরা সুযোগ নিচ্ছে।’

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সকল দল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও গণঐক্য রক্ষা করার ব্যাপারে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান উপদেষ্টাকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া তারা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্যাসিবাদ রোধে নিয়মিত সর্বদলীয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব করেন।

বৈঠকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মজিবুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির তানিয়া রব, ১২ দলের জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা এর আগে গতকাল রাতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও বৈঠক করেন।