ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অগ্রযাত্রায় দৃঢ় প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেওয়া ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বললেন, অল্প সময়ে যে ইতিবাচক কাজগুলো করা হয়েছে তা দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সামনের দিনে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি এও আশা প্রকাশ করেন যে সরকারি সংশ্লিষ্টরা তথ্যভিত্তিক বক্তব্য তুলে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। জরুরি ও বিস্তারিত বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো—

১। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে; ইতোমধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

২। কৃষক-চাষীদের সুবিধার জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩। প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।

৪। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করে সরকার সংসদীয় প্রক্রিয়ায় দ্রুততা দেখিয়েছে।

৫। সারাদেশে ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে; কাজ শুরু হয়েছে ৫৪ জেলায়।

৬। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মাঝেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো থেকে বিরত থেকে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

৭। জাতীয় গ্রিডে রুফটপ সোলার ও নেট-মিটারিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৮। জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ড পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

৯। মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; বিশেষত ব্রতকালের রমজান মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

১০। ঈদ-উল-ফিতরের সময় সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের মাঝে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে; জাকাত ব্যবস্থায় আধুনিকীকরণ করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১। শিগগিরই প্রবাসীদের সুবিধার জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

১২। হজযাত্রার খরচ এ বছর টিকিটপ্রতি ১২,০০০ টাকা কমানো হয়েছে; প্রথমবার দেশের মাটিতে ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।

১৩। সরকারি খাতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি শূন্য পদ চিহ্নিত করা হয়েছে; শূন্য পদ পূরণে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

১৪। পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।

১৫। স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসায় ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।

১৬। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে; লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি।

১৭। অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর বৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তব জিডিপি বৃদ্ধিকে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৮। মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

১৯। বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০। গত প্রায় ১৮ বছরে প্রথমবারের মতো ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ সময়মতো নিশ্চিত করতে সরকার, শিল্পপতি ও ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।

২১। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার বিষয় নিয়ে দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার স্থান পেয়েছে।

২২। বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

২৩। বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে নীতি নেওয়া হচ্ছে।

২৪। উত্তরবঙ্গকে অ্যাগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র (হাব) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৫। পে-পাল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

২৬। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; নিয়োগে ৮০ শতাংশ নারী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

২৭। গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ রক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২৮। বারবার ভর্তি ফি আরোপ না করার নীতি নেওয়া হয়েছে; লটারির পরিবর্তে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।

২৯। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যায় এমন শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৩০। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯,০০০ ধর্মীয় শিক্ষক ও অন্যান্য শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৩১। স্কুল-মাঠ উন্মুক্ত করে শিশুশিশুরদের খেলাধুলো বাড়ানো হবে; উপজেলার প্রতিটি ছয়টি খেলায় তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু হয়েছে; মহানগরীতে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান করা হচ্ছে; চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে।

৩২। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’ পুনরায় চালু করা হয়েছে; প্রথমবার ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত সংযুক্ত করা হচ্ছে; জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ করা হয়েছে; দেশব্যাপী পাঠচর্চা বাড়াতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৩৩। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে; ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

৩৪। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যক্রম সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩৫। মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৩৬। স্পোর্টস কার্ড ও স্পোর্টস আলাউন্স কর্মসূচি চালু করে ইতোমধ্যেই শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

৩৭। আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ চারা উৎপাদন করা হয়েছে; চলতি বর্ষায় এসব চারা রোপণ করা হবে।

৩৮। রাষ্ট্রীয় ভবন হিসেবে যমুনা ভবন ব্যবহারের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী গুলশানে নিজ বাসভবন ও নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন; ব্যক্তিগত খরচে কিছু ব্যয় করা হচ্ছে—যা রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

৩৯। প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যবহার সহজতর করতে তিনি শনিবারও অফিস করছেন; কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; ভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে সাধারণ চলাফেরা ও ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে; রাষ্ট্রীয় সফরের সময় বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা হয়েছে।

৪০। দালাল বা মধ্যস্বত্তার হস্তক্ষেপ বন্ধে বিভিন্ন সেবায় অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; নগদ লেনদেন কমাতে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে; নকশা-নকাবলি প্রতিরোধে ডিজিটাল সার্ভিস পাইলটিং চলছে; ২৪/৭ হটলাইন চালু করা হয়েছে।

৪১। পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি অঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে।

৪২। এমপি-মন্ত্রীরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে।

৪৩। সরকারি অফিস ও বেসরকারি শিল্পখাতে পাটজাত পণ্য ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৪৪। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালু রাখা হয়েছে; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি অংশগ্রহণে কার্যক্রম চলছে।

৪৫। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হামে’র (হামার) টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে; দ্রুত সারাদেশে টিকাদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

৪৬। চাঁদাবাজি ও অপরাধ মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে; জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪৭। ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস ও নারীদের জন্য নিরাপদ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৪৮। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে; নদী দখল ও দুষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ধার্য করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

৪৯। শক্তি ও অর্থ অপচয় রোধে সরকারি ইফতারের আয়োজন সীমিত করা হয়েছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ১১টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

৫০। প্রথমবারের মতো এনটিআরসি’র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরীক্ষা চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

৫১। দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে; ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এবং আগামী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

৫২। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৫৩। সরকার উদার, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন মতপ্রকাশসমর্থক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে; গত দুই মাসে স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশে কোন ব্যত্যয় ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

৫৪। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

৫৫। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের প্রধান বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট সার্ভিস চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও ফ্রি ইন্টারনেট উদ্বোধন করা হয়েছে।

৫৬। চলন্ত ট্রেনে যাত্রী সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সিরিতে ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

৫৭। অর্থনৈতিক কূটনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসীদের কল্যাণ, দূতাবাস ও মিশনগুলোকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজে লাগানো হচ্ছে।

৫৮। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে; সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধাসহ বহু ক্ষেত্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

৫৯। বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

৬০। উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশনের মানদণ্ড অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে; সরকার দাবি করেছে, বিগত দুই মাসে মানবাধিকার রক্ষায় যে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, সরকারের এই পদক্ষেপগুলো দেশের অগ্রগতির পথে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।