সরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় ও আধুনিক করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আরো সক্ষম, আধুনিক ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে সক্ষম করে তুলতে কাজ চলছে। বুধবার তারেক রহমানের প্রশ্নের লিখিত জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের যোগান ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাহিনীকে নতুন করে সাজিয়ে তুলছে। তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে অনন্য সক্ষমতা অর্জন করে। এজন্য নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতিও প্রণয়নের কাজ চলছে। সেনাবাহিনীকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী করতে, সমুদ্র নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি রক্ষায় নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ, এর পাশাপাশি বিমান হামলা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে জোরদার করা হচ্ছে, যা দেশীয় শিল্পে স্বনির্ভরতা বাড়াবে। তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল বাহিনীকে মডার্ন, কুইক, আত্মনির্ভরশীল এবং সর্বোচ্চ সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলার। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকার শুধু অস্ত্র সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে নয়, বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামোর সুরক্ষা ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয় সম্পর্কিত নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। বিমান বাহিনীকে আধুনিক করে ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, ভাতা, সম্মান এবং অবসর সুবিধা সুনিশ্চিত করতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়াও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান, সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য এক স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার সামরিক শক্তি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করছে। এর জন্য বিভিন্ন বন্ধুর সাথে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া, স্টাফ বৈঠক, প্রতিরক্ষা সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এসবের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।








