বলিউড নায়ক শাহিদ কাপুরের নতুন ছবি ‘ও রোমিও’ মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। গত শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরই ছবি আয়ের রমরমা শুরু করে এবং দর্শকপ্রিয়তার বিচারে পথচলা টেকেছে শক্ত অবস্থান থেকে। বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত এই ছবিতে শাহিদের সঙ্গে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেছেন তৃপ্তি দিমরি, আর তাদের রসায়ন দর্শকদের টানা আগ্রহ জাগিয়েছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষক সংস্থা স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ‘ও রোমিও’ মুক্তির প্রথম দিনে সংগ্রহ করেছে ৮ কোটি ২৫ লাখ রুপি—এটি প্রত্যাশার থেকেও অনেক বেশি একটি উদ্বোধনী। একই দিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বড় বাজেটের প্রতিদ্বন্দ্বী ছবিগুলোর তুলনায় ‘ও রোমিও’ আয় তালিকায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, সানি দেওলের ‘বর্ডার ২’ প্রথম দিনে আয় করেছে মাত্র ৮০ লাখ রুপি এবং রানি মুখার্জি অভিনীত ‘মারদানি ৩’ প্রথম দিনে প্রায় ৬০ লাখ রুপি সংগ্রহ করেছে। এই ফল থেকে স্পষ্ট যে বর্তমান সময়ে দর্শকরা শাহিদ–তৃপ্তির নতুন জুটিকে দেখতে বেশি আগ্রহী।
এ ছাড়া ‘ও রোমিও’ নিজের আগের কিছু ছবির উদ্বোধনী দিনের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে—শাহিদের পূর্বের ছবি ‘দেবা’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি, ‘তেরি বাতোঁ মে…’ ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ এবং ‘জার্সি’ ৩ কোটি ২০ লাখ রুপি।
চিত্রনাট্য, নির্মাণশৈলী এবং শাহিদের বিশেষ লুক—বিশেষ করে শরীরজুড়ে থাকা ট্যাটু—দর্শকদের কৌতূহল একেবারে বাড়িয়ে দিয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহিদ জানিয়েছিলেন, প্রতিদিন ওই ট্যাটু লুক তৈরি করতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগত। তিনি আরও জানিয়েছেন ছবিটি সরাসরি সুপারহিরো ঘরানার না হলেও প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ পোশাক ও উন্নত ভিএফএক্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা অভিনয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
‘ও রোমিও’ ভিসাল ভরদ্বাজ ও শাহিদের চতুর্থ সহযোগিতা; আগে তারা মিলেই তৈরি করেছিলেন ‘কামিনে’, ‘হায়দার’ ও ‘রেঙ্গুন’—সবই গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত কাজ।
নাদিয়াদওয়ালা গ্র্যান্ডসন এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত এই ছবিতে প্রধান জুটির পাশাপাশি তামান্না ভাটিয়া, বিক্রান্ত ম্যাসি, অবিনাশ তিওয়ারী, নানা পাটেকর ও ফরিদা জালালের মতো শক্তিশালী পার্শ্বচরিত্রও রয়েছে। প্রথম দিনের এই সাফল্যের পর এখন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা ছবিটির প্রথম উইকএন্ডের আয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি মুক্তির সাড়া বজায় থাকে, তবে ‘ও রোমিও’ চলতি বছরের অন্যতম সফল ছবি হয়ে উঠতে পারে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে শাহিদের তীক্ষ্ণ অ্যাকশন ও তৃপ্তির সাবলীল অভিনয়ের মিলই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি—দর্শকরা সেই মিলটিই দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করছেন।








