ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন

আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই ঘোষণাপত্র ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গৃহীত, যা গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষ্যে প্রণীত।

ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে জানানো হয়েছে যে, স্বাধীন বাংলাদেশের সংগ্রাম থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, একদলীয় শাসন, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, দমন-পীড়ন ও বর্তমান ফ্যাসিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এই দলিলে প্রতিফলিত হয়েছে।

এতে স্বাধীনতার সূচনা, বাকশাল শাসনের পতন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের একনায়কতান্ত্রিক শাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধ সরকার পতন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের কথা বলেছে ঘোষণাপত্র।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা। এ সবের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় জনগণ।

জুলাই ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষা করা হবে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকে মূল ভিত্তি ধরে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও উন্নত সমাজ বিনির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এই ঘোষণাপত্র দেশের জনগণের দৃঢ় আশা ও সংগ্রামের ঐভব প্রকাশ করে।