ঢাকা | বুধবার | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ইসলামিক এনজিওগুলোকে সামাজিক ব্যবসায় এগিয়ে আসার আহ্বান

মুসলিম বিশ্বের উন্নয়নে আরও বেশি সামাজিক ব্যবসায় এগিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি রবিবার (৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন এনজিও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের সমাজে নারীদের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দরিদ্রদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো কঠিন হলেও আমরা এটিকে দরিদ্রদের সহায়তার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে এই সহায়তা কার্যকর এবং স্থায়ী করা সম্ভব।”

এছাড়া, দেশে-বিদেশের তরুণদের সামাজিক ব্যবসায় অংশ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন তিনি। তাঁর এই দিকনির্দেশনা এনজিও নেতাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার প্রচার বিভিন্ন দেশেও অনুপ্রেরণার জন্ম দিয়েছে বলে সভায় প্রকাশ পায়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন তুরস্কের ‘ইউনিয়ন অব এনজিওস অব দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড’ (ইউএনআইডব্লিউ) এর সেক্রেটারি জেনারেল আইয়ুপ আকবাল, ‘অ্যাসেম্বলি অব টার্কিশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন্স’ এর প্রতিনিধি মুহাম্মদ হুসেইন আক্তা, মালয়েশিয়ার ওয়াদাহ ও ইউএনআইডব্লিউয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ফাওয়াজ বিন হাসবুল্লাহ, পাকিস্তানের আল-খিদমত ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও ইউএনআইডব্লিউয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুস শাকুর এবং ইন্দোনেশিয়ার ইউএনআইডব্লিউ অডিটিং বোর্ডের সদস্য ড. সালামুন বশরি।

এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিআইআইটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর মাহবুব আহমেদ, এসএসডব্লিউএবির চেয়ারম্যান ও ইউএনআইডব্লিউর হাই অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এস এম রাশেদুজ্জামান, কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউএনআইডব্লিউ কাউন্সিল সদস্য ড. আলী আফজাল এবং বিআইআইটির মহাপরিচালক ও আইআইআইটির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. এম আবদুল আজিজও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে দারিদ্র্য লাঘব এবং স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহায়তার পথিকৃত্তাদের ভূমিকা নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বান এনজিও নেতাদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে এবং তারা নিজ নিজ দেশে সামাজিক ব্যবসার উদ্যোগ প্রসারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।