ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিক ও মূল্যবোধে গড়ে তুলুন শিক্ষকদের মাধ্যমে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আপনারাই সেই কারিগর যারা শিশুদের মানুষ করে তোলে। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কোনো শিশু যেন অপশক্তি বা নির্দয়তার মাধ্যমে বড় হয়ে না উঠে, তা প্রাণী হোক বা পাখি-প্রাণী, কারো প্রতি যেন তারা বিভ্রান্ত বা কঠোর না হয়। শিশুদের মন-মানসিকতা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রথমে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন, গীতা, ত্রিপিটক এবং বাইবেল থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়। দুর্দান্ত এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও উন্নয়নের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রাথমিক শিক্ষা পদকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তিনি বললেন, ‘আজ এই অনুষ্ঠানে এসে মনে হলো আমি যেন একজন কারখানার মধ্যে আছি, যেখানে সবাই মানুষ গড়ার কারিগর।’

সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য। আপনারাই পারেন শিশুদের পরিবার, সমাজের মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্যই কিছু সীমাবদ্ধতা ও সংকট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সব কিছুর সমাধান করতে। পাশাপাশি ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব যাতে আপনি আপনার অর্জিত জ্ঞান সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে দিতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার উপর জোর দেন এবং প্রতি বছর একেকটি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকে বর্ষাকালে একটি করে গাছ লাগাবে। গাছ বড় হবে, তোমরাও বড় হবে। গাছ হবে তোমাদের বন্ধু। গাছের নিচে বসে ক্লান্তি ও মনোউদ্বেগ দূর হবে, শান্তি ও আনন্দ পাবি।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন লিখিত বক্তব্য রাখেন। এর সঙ্গে আরও ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন।

দেশের বিভিন্ন জেলায় থেকে আসা অসংখ্য শিশু শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। এ সময় বিভিন্ন ধাপ পার করে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখাদের মধ্যে সেরা শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে পদক দেওয়া হয়।

প্রোগ্রাম চলাকালীন খুদে শিক্ষার্থীদের দুটি দলের মধ্যে মোবাইল শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চলতে থাকে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা যেখানে গান, কবিতা, আবৃত্তি, নাচ ও নাটক উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিথি সারিতে বসে এই সব অনুষ্ঠানের আনন্দ উপভোগ করেন।