ঢাকা | শনিবার | ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীর সংসদে ঘোষণা: ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার, ৭০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে (২০০৯-২০২৩) বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থবহভাবে পাচার হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদ অবরুদ্ধ করার জন্য সরকারের কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে গড়ে বছরপ্রতি ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকার অবৈধ অর্থপ্রবাহ ঘটে আসছে। পাচারের প্রধান গন্তব্য হিসেবে ১০টি দেশে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও চীনের হংকং।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই অর্থ পাচার রোধে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (MLAT) স্বাক্ষরের জন্য সম্মতিপত্র আদান-প্রদান হয়েছে। বাকি সাতটি দেশের সাথে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থের অপব্যবহার এবং পাচার রোধে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অবরুদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় সম্পদ ক্রোক হয়েছে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশি সম্পদ ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা, মোট মিলিয়ে ক্রোকের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার মতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে অর্থ পাচার সংক্রান্ত ১৪১টি মামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল ও ছয়টির রায় প্রদান সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ ১১টি মামলাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরা হচ্ছে, যেখানে রয়েছেন— শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, এইচবিএম ইকবাল ও তার পরিবার ও সামিট গ্রুপ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে যা অর্থ পাচার ও দুর্নীতি হয়েছে, তার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিচার কার্যক্রম আমাদের নির্বাচনকালীন অঙ্গীকারের অংশ। বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং রোধে সম্পদ পুনরুদ্ধার ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলছে।