প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও শিল্পখাতের বিদ্যমান সংকট নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বর্তমান জ্বালানি সঙ্কট, ঋণের উচ্চ সুদ, ও সামষ্টিক অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই উপদেষ্টা পরিষদ নীতিনির্ধাক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের একটি নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। কর্মকর্তারা বলছেন, সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক তথ্য ও মতামত দিয়ে সময়োপযোগী ও কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ সহজ হবে।
পরিষদে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্যের খাত থেকে নয় জন শীর্ষ উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিবিএল গ্রুপের এম এ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্সের সৈয়দ এম তানভীর, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বে ফুটওয়্যারের জিয়াউর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের আব্দুল মুক্তাদির, রানার গ্রুপের হাফিজুর রহমান খান, র্যাংগস গ্রুপের সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআই-এর আরিফ দৌলা।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই পরিষদ গঠন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল; তবে পরে তেমন অগ্রগতি হয়নি। 이번 বৈঠকে সেই প্রস্তাব পুনরায় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক বিন হারুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা জানার আগ্রহী—তারা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কোন নীতিগত পদক্ষেপ নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে সেসব বিষয়ে খোলাখুলিভাবে আলোচনার সুযোগ মিলবে। তিনি আরও বলেছেন, বৈঠকে উৎপাদন খাতের তাৎক্ষণিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সক্ষমতা ধরে রাখার উপায় খুঁজে বের করাও গুরুত্ব পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈঠকে জ্বালানি সরবরাহ সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজিবাজারে অস্থিরতা নিয়ে গোটা তালিকাভিত্তিক আলোচনা হবে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সমন্বয় গ্রহণের দিকনির্দেশনা নিয়েও কথা হবে।
সরকারি ও বাণিজ্য নেতারা আশা করছেন, এই নতুন প্ল্যাটফর্ম নীতিনির্ধায়কদের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে এবং একসঙ্গে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








