ঢাকা | শনিবার | ১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

প্রায় নিশ্চিত: অ্যান্ডি বার্নহাম হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী

লেবার পার্টির বিপুল উৎসাহ ও সমর্থনের ফলে অ্যান্ডি বার্নহাম এখন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রায় নিশ্চিত অবস্থানে পৌঁছে গেছেন। দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার ফলে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই লেবার পার্টির মোট ৪০৩ জন এমপির মধ্যে ৩২২ জনের আনুষ্ঠানিক সমর্থন অর্জন করেছেন বার্নহাম। ফলে তিনি একমাত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে মাত্র একটি মনোনয়ন আরও পেলে যথেষ্ট হবেন। নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা নিশ্চিত করে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় বার্নহাম বলেন, “সবকিছু এখন খুব বাস্তব মনে হতে শুরু করেছে।”

মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা আছে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত। যদি বার্নহাম আগামী ১৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে ঘোষণা পান, তবে অনুমান চলছে যে তিনি ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারবেন।

বার্নহাম যদি ৩২৩টি মনোনয়নে পৌঁছান, তাহলে আর অন্য কোনও প্রার্থী এই প্রতিযোগিতায় ওঠার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না। নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সমর্থন হিসেবে উল্লেখিত সংখ্যক এমপির জোরালো সমর্থন প্রয়োজন, যা এখন আর বাকি কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। লেবারের কয়েকজন এমপি বলেছেন, বৃহস্পতিবার তারা ভোট দিতে পারেননি, কিন্তু আগামী ১৩ জুলাই পার্লামেন্টে ফিরে তারা বার্নহামকেই সমর্থন দেবেন।

এদিকে, গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে সাবেক জুনিয়র প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস বার্নহামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা দিলে বার্নহামের পথ আরও সুগম হয়।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর লেবারের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব ও নীতি পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয় এবং সেই চাপের মধ্যেই কিয়ার স্টারমার গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এখন পরিস্থিতি এমন যে লেবার পার্টির কেন্দ্রে অ্যান্ডি বার্নহামই রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ের কার্যকর মুখ হিসেবে দাঁড়িয়েছেন।