ঢাকা | শনিবার | ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চাপের মুখে: সিপিডির মূল্যায়ন

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। এই অসুখের ঘুটি শল্যচিকিৎসার মতো দ্রুততার সঙ্গে মোকাবেলা করতে না পারলে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে সতর্ক করেছে দেশের অন্যতম গবেষণা সংস্থা সিপিডি। মঙ্গলবার (৪ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই আশঙ্কার কথা বলেছেন।

সিপিডির কার্যক্রমে থাকা অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায় যে, চলমান খাতগুলো যেমন- আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল, নানা ধরনের চাপের মুখে। মূল্যস্ফীতি, সরকারের অর্থায়ন ও ব্যাংকিং যত সমস্যা বাড়ছে, ততই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। এসব সংকট নতুন নয়, বরং গত কিছু বছর ধরে ধাপে ধাপে এই চাপ বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা—সকল ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অনেকটাই পিছিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে সরকারকে রাজস্ব আহরণে জোর দিতে হবে। অন্যদিকে, মূল‍্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে নেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুত মূল‍্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাতের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এখনও পর্যাপ্ত শৃংখলা ফিরে আসেনি। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংকগুলোর প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। নতুন সরকারের উচিত দ্রুত এই খাতে শৃংখলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।

ফাহমিদা খাতুন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সংকটগুলো আরও জটিল হয়ে উঠছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, আইন অমান্য ও বিধি-বিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এসব অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, জবাবদিহিতার ঘাটতিও সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

সংস্থার অন্যান্য গবেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, সাময়িক স্বস্তির বিষয়গুলো স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচক সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া উপায় নেই। দ্রুত কার্যকর নীতিমালা ও কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না হলে, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সম্ভব নয়।

সিপিডির এই ব্রিফিংয়ে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দৃষ্টিভঙ্গি একটুখানি পরিবর্তন করেও এসব দুর্বলতা দূর করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন পরিস্থিতির যথাযথ মূল্যায়ন, শক্তিশালী আর্থিক নীতি ও বাস্তবায়নে জোর দেওয়া। দেশের অর্থনীতির এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সেই সঙ্গে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ ও দৃষ্টি প্রয়োজন।