বাংলাদেশের মুদ্রার মান পুরোপুরি দেশীয়ভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোনো অযৌক্তিক কারণে এক পয়সাও অবমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী ড. আফসান এইচ মনসুর গতকাল বলেন, “আমাদের টাকার মান নির্ণয় হবে দুবাই কিংবা অন্য কোথাও থেকে নয়।”
তিনি দেশের অভ্যন্তর থেকে এই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমঝোতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা একসাথে কাজ না করি, তাহলে কিছু মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিতে পারে। বাংলাদেশের সম্ভাবনা সীমাহীন হলেও, তা নষ্ট হওয়ার আশংকাও কম নয়।”
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে গুগল পে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর এই উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। তিনি আরও জানান যে, আগামী জানুয়ারিতে ব্যাংক খাতের উন্নয়নের জন্য ‘রিস্ক বেজ সুপারভিশন’ পদ্ধতি চালু করা হবে, যা ইতিমধ্যে ২০টি ব্যাংকে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।
গভর্নর বলেন, রাজনীতির পরিবর্তন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত আর্থিক উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য আরও সময় প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু ব্যাংককে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, আমানতকারীরা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না এবং তারা তাদের বর্তমান ব্যাংকে থেকেই সেবা নিতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুগল পে’ ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার শুরু হয়। গুগল, মাস্টারকার্ড এবং ভিসার সহায়তায় দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ‘সিটি ব্যাংক পিএলসি’ গুগল পে-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
প্রথমপর্যায়ে শুধুমাত্র সিটি ব্যাংকের ভিসা ও মাস্টারকার্ড গ্রাহকরাই গুগল ওয়ালেটের মাধ্যমে গুগল পে ব্যবহার করতে পারবে, পরবর্তীতে অন্যান্য ব্যাংক সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এই সেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
গুগল পে ব্যবহারে গ্রাহকরা দেশ-বিদেশে যেকোনো POS টার্মিনালে স্মার্টফোন ট্যাপ করেই লেনদেন করতে পারবেন, ফলে ফিজিক্যাল কার্ড বহন করার প্রয়োজন হবে না। গুগল পে কোনো ট্রানজেকশন ফি নেয় না এবং নিরাপত্তার জন্য কার্ডের পরিবর্তে এক ধরনের ‘টোকেন’ ব্যবহার করে।
অনুষ্ঠানে গুগল পেমেন্টসের গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার শাম্মী কুদ্দুস, সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হোসেন খালেদ, সিইও মাসরুর আরেফিন, মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি জ্যাকবসন, মাস্টারকার্ড ও ভিসার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিটি ব্যাংকের সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, “এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের ভবিষ্যত গঠনে আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। গুগল পে চালু করে সিটি ব্যাংক আবারও প্রমাণ করল যে আমরা ডিজিটাল উদ্ভাবনের অগ্রদূত এবং দেশের অর্থনৈতিক আধুনিকীকরণের পথিকৃৎ।”







