ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাবান্ধা সীমান্তে ৯ নারী ও শিশুকে পুশইন করলো বিএসএফ

পঞ্চগড় জেলার বাংলাবান্ধা সীমান্তে গত শুক্রবার (১ আগস্ট) ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে এক তরুণীকে হস্তান্তর করার পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ মোট ৯ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে।

পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে পপির রায় (২২) নামের এক তরুণীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফ হস্তান্তর করেছে। পপি দীর্ঘ এক বছর ধরে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং শিলিগুড়ির একটি মন্দিরে কাজ করছিলেন। স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে, যার পর সৌজন্য বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে ফেরত দেয়া হয়।

অন্যদিকে একই সীমান্ত দিয়ে একই পরিবারের চার নারী ও শিশুসহ মোট ৯ জনকে পুশইন করা হয়। পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন আছমা খাতুন (৩৫), তার ছেলে সামির মোড়ল (১৭), সালাম মোড়ল (১৫) ও মেয়ে শাহিনা (৭)। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিনের জন্য মুম্বাইতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এবং পুলিশের тарабынан শিলিগুড়ি পাঠানো হওয়ার পর বিএসএফ তাদের সীমান্ত দিয়ে পুশইন করেছে।

সেইসঙ্গে, শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ডাংগিপুকুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে আরও পাঁচ নারীকে পুশইন করেছে বিএসএফ। তাদেরকে বিজিবি পঞ্চগড় সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। পুশইন হওয়া নারীদের নামের মধ্যে রয়েছে সাদিয়া খাতুন (৩৫), শারমিন সুলতানা সুমি (৩৫), মল্লিকা (৩২), ময়না খাতুন (৪৫), ও হালিমা (৩১)।

সূত্র মতে, পপির বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় এবং পুশইন হওয়া ৯ জনের বাড়ি যশোর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে জিডির মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, একই দিনে সদর উপজেলার ঘাগড়া সীমান্ত ও ভজনপুর এলাকা থেকে আরও ১৭ জনকে পুশইন করা হয়েছে এবং তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত দুই-তিন মাসে ১০ দফায় পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৫৭ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বিএসএফ। এই ১১তম দফায় আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের পাশাপাশি ৯ জনকে ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে।