শনিবার (২৬ জুলাই) একটি সেমিনারে বক্তারা সতর্ক করেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের বিচার নিশ্চিত না হলে দেশে আবারও গুমের কালো সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে।
বক্তারা বলেন, এটির প্রধান কারণ হলো গুম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে নানা বাধা, হুমকি ও অসহযোগিতার সৃষ্টিকরণ।
সেমিনারটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার হলে ‘বলপূর্বক গুমের ঘটনা মোকাবেলা: কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়’ শীর্ষক আলোচনা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এতে গুমের শিকারদের পরিবার, গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তরের সহযোগিতায় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন ও ড. নাবিলা ইদ্রিস। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন অধিকার’র পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। জাতিসংঘের ঢাকাস্থ মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন।
বক্তারা আরও জানান, বিচার ব্যবস্থা সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গুমে জড়িত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পালিয়ে যাওয়া, যা বিচারে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
তবে তদন্ত কমিশন সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে গুমের ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণ এবং শাস্তির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে।
সাজ্জাদ হোসেন উল্লেখ করেন, গুম সাধারণত চারটি স্তরে সংঘটিত হতো। প্রথম স্তরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নজরদারি করা, দ্বিতীয়স্তরে তাকে তুলে নেওয়া, তৃতীয় স্তরে জঙ্গি হিসেবে অভিহিত করে অস্ত্র ও সন্ত্রাস মামলায় আদালতে চালান দেওয়া অথবা হত্যা করা, এবং চতুর্থ স্তরে ভারতে পাচার বা গুম করে রাখার মতো বিভিন্ন ভয়ঙ্কর কাজ করা হতো।
তিনি আরও বলেন, কমিশন চার ধরনের অনুসন্ধান করছে: সব ‘আয়না ঘর’ বা গুমের বন্দিশালা পরিদর্শন, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ, ভারতীয় কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে প্রবাস দপ্তরের মাধ্যমে নথিপত্র প্রেরণ, এবং ভারতের পুশইনের তালিকা অনুধাবন।
সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, খুলনা জেলা আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর তৌহিদুর রহমান চৌধূরী তুষার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক ড. নাজমুস সাদাত শুভ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার খুলনার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে গুম থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিরা ও গুমের শিকারদের পরিবারে সঙ্গে অনুষ্ঠিত গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের বিভাগীয় পরামর্শ সভায় ড. নাবিলা ইদ্রিস জানান, কমিশন সংশ্লিষ্টদের না জানিয়েই গোপনে বন্দি ঘরগুলো পরিদর্শন করছে, কারণ আগে জানালে সেসব স্থানে আলামত ধ্বংস ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গোপনিযুক্ত পরিদর্শনের ফলে ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল রেখে প্রমাণ সংগ্রহে সফল হওয়া যাচ্ছে। এই ভাবে তদন্ত কমিশন তথ্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে।
সেমিনারে গুমের শিকারদের পরিবার ও পুনর্বাসিত ব্যক্তিরা তাদের endured নিপীড়ন এবং অত্যাচারের বৃত্তান্ত তদন্ত কমিশনের সামনে উপস্থিত করেন।
মোটকথা, বিচার প্রয়োগে বাধা অতিক্রম না করলে এবং গুমের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে দেশের শান্তি ও মানবাধিকার বিপন্ন হয় এবং গুমের সংস্কৃতি পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে।








